লোকসভা ও বিধানসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল (১৩১তম সংশোধনী) মুখ থুবড়ে পড়ার পর এবার বিজেপির বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ তুলে সরব হলেন বিহারের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব। শনিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি সাফ জানান, কোনো দলই নারী বিলের বিরোধী নয়, তবে বিজেপির আসল উদ্দেশ্য হলো ‘সংবিধান পরিবর্তন’ করা।
“ওবিসি নারীদের বঞ্চনা করা হয়েছে”
তেজস্বী যাদবের মূল আপত্তির জায়গা হলো ওবিসি ও অনগ্রসর শ্রেণির মহিলাদের জন্য পৃথক কোটা না থাকা। তিনি বলেন:
“আমরা বিলের বিরুদ্ধে নই, কিন্তু ওবিসি এবং অনগ্রসর নারীদের কেন এর বাইরে রাখা হলো?”
“বিজেপি জানত তাদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, তাও তড়িঘড়ি বিল এনেছে স্রেফ নারী-পন্থী সাজার জন্য।”
“জাতিগত আদমশুমারি না করে এই বিল আনা আদতে অনগ্রসরদের ঠকানোর চক্রান্ত।”
আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে বিস্ফোরক দাবি
বিলটির সঙ্গে যুক্ত আসন পুনর্বিন্যাস (Delimitation) প্রক্রিয়াকে বিজেপির ‘গোপন চাল’ বলে অভিহিত করেছেন তেজস্বী। তাঁর অভিযোগ, কোন বুথে কারা শক্তিশালী তা দেখে সীমানা বদলে বিরোধীদের নির্মূল করার ছক কষেছে বিজেপি। তাঁর হুঙ্কার— “যতদিন আমরা আছি, বাবাসাহেব আম্বেদকরের সংবিধান কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না।”
আরএসএস-এর আদর্শ নিয়ে কটাক্ষ
আরএসএস এবং মনুস্মৃতি টেনে বিজেপিকে আক্রমণ করে তেজস্বী বলেন, “আরএসএস-এর কাছে নারীদের স্থান কোথায়? তারা মনুস্মৃতিতে বিশ্বাস করে। যারা সেখানে নারীদের অধিকার দেয় না, তাদের মুখে নারী সম্মানের কথা মানায় না। তারা কেবল নিজেদের রাজনৈতিক উন্নতি চায়।”
সম্রাট চৌধুরী ও বিহারের ইস্যু নিয়ে তোপ
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন তেজস্বী। মদ্যপান নিষিদ্ধকরণ থেকে শুরু করে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি— একাধিক ইস্যুতে সরকারকে কোণঠাসা করেন তিনি।
বিদ্যুতের বিল: “১২৫ ইউনিট ফ্রি দেওয়ার কথা বলে দাম বাড়ানো হয়েছে। মানুষ যখন সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, তখনই এই কোপ কেন?”
রাজস্ব ও কারখানা: “প্রতি জেলায় কারখানা এবং মহিলাদের ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি কোথায় গেল? কোষাগার তো খালি!”
গুজরাট থেকে বিহার: তেজস্বীর অভিযোগ, বিহার এখন আর স্বশাসিত নয়, পিএমও-র নির্দেশে বিহার এখন ‘গুজরাট’ থেকে চালানো হচ্ছে।





