বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের আধিপত্য আরও মজবুত করতে এক নজিরবিহীন ‘স্প্লিট স্কোয়াড’ বা দ্বৈত দল গঠনের পথে হাঁটল ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (BCCI)। ঠাসা আন্তর্জাতিক সূচি এবং এশিয়ান গেমসের মতো বড় ইভেন্টের কথা মাথায় রেখে এখন থেকে একই সময়ে দুটি শক্তিশালী ভারতীয় দল মাঠে নামানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। আর এই দ্বিতীয় বা ‘নেক্সট জেন’ দলের অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে পঞ্জাব কিংসের বর্তমান অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারকে।
বিসিসিআই-এর নতুন কৌশল: বোর্ড সূত্রে খবর, এ বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের টি-২০ সিরিজ এবং এশিয়ান গেমস একই সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে বিসিসিআই ৩০ থেকে ৩৫ জন ক্রিকেটারের একটি বিশাল ‘প্লেয়ার পুল’ তৈরি করছে।
টিম এ: অভিজ্ঞ ও সিনিয়র ক্রিকেটারদের নিয়ে গঠিত হবে।
টিম বি: আইপিএল-এ নজর কাড়া তরুণ তুর্কি এবং ফর্মে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া হবে, যার দায়িত্ব সামলাবেন শ্রেয়স আইয়ার।
কেন শ্রেয়স আইয়ারকে অধিনায়ক করা হলো? ১. আইপিএল সাফল্য: কেকেআর-কে ট্রফি জেতানো এবং বর্তমানে পঞ্জাব কিংসের হয়ে দুর্দান্ত নেতৃত্ব ও ব্যাটিং ফর্ম (৫ ইনিংসে ২০৮ রান) শ্রেয়সের পাল্লা ভারী করেছে। ২. অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেল: জাতীয় দলে ব্রাত্য থাকলেও শ্রেয়সের ট্যাকটিক্যাল বোধ এবং চাপের মুখে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে ভরসা করছে নির্বাচক কমিটি। ৩. ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: সূর্যকুমার যাদবের উত্তরসূরি হিসেবে টি-২০ ফরম্যাটে একজন স্থায়ী নেতার খোঁজে রয়েছে বোর্ড। আয়ারল্যান্ড সফর এবং এশিয়ান গেমসে শ্রেয়স সফল হলে, তিনিই হতে পারেন ভারতের আগামীর পূর্ণ সময়ের অধিনায়ক।
আয়ারল্যান্ড সফরেই প্রথম পরীক্ষা? নির্বাচক কমিটির প্রধান অজিত আগরকরের নেতৃত্বাধীন দল আসন্ন আয়ারল্যান্ড সফরেই এই নতুন কাঠামোর পরীক্ষা করতে পারে। সিনিয়র ক্রিকেটারদের বিশ্রাম দিয়ে শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বে একঝাঁক নতুন মুখকে নীল জার্সিতে দেখা যেতে পারে। এই দলে সুযোগ পেতে পারেন নীতিশ রেড্ডি, তিলক বর্মা এবং মায়াঙ্ক যাদবের মতো প্রতিভাবানরা।
বিসিসিআই-এর এই ‘মডার্ন’ ক্রিকেট ভাবনা কি সফল হবে? নাকি দুই দলের চাপে তাল কাটবে পারফরম্যান্সে? উত্তর দেবে সময়। তবে শ্রেয়স আইয়ারের হাতে নেতৃত্বের ভার ফিরে আসা যে তাঁর কেরিয়ারের জন্য বড় টার্নিং পয়েন্ট, তা নিশ্চিত।





