ইসলামাবাদ: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ আরও ঘনীভূত। একদিকে যখন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শান্তি আলোচনার লক্ষ্য নিয়ে ইসলামাবাদে পা রাখছেন, ঠিক তখনই কড়া শর্ত জুড়ে দিয়ে আলোচনার পথ কার্যত বন্ধের হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের সংসদীয় স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ। তাঁর সাফ কথা, শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনার টেবিলে বসবে না তেহরান।
কী সেই দুই শর্ত? সোশ্যাল মিডিয়ায় (X) একটি পোস্টে গালিবাফ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা অনুযায়ী দুটি প্রধান শর্ত এখনও কার্যকর করা হয়নি:
লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে হবে।
আমেরিকায় আটকে থাকা ইরানের সমস্ত সম্পদ অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
গালিবাফের এই কঠোর অবস্থানের কারণে ইসলামাবাদে হতে যাওয়া এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন বড়সড় সংশয় তৈরি হয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, ইরান এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানে তাদের প্রতিনিধি দল পাঠায়নি।
ট্র্রিগারে আঙুল রেখে তৈরি ইরানি সেনা: আলোচনার আবহেই ইরানের সামরিক বাহিনী অর্থাৎ ‘খাতম আল-আনবিয়া’ সদর দফতর থেকে এসেছে এক চরম হুঁশিয়ারি। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানি ফৌজ যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং তাদের আঙুল ট্রিগারেই রয়েছে। যেকোনো ধরনের হামলার তাৎক্ষণিক ও বিধ্বংসী জবাব দেওয়া হবে। বিশেষ করে লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে তার পরিণাম হবে ‘যন্ত্রণাদায়ক’। এমনকি হরমুজ প্রণালী নিয়েও নতুন রণকৌশলের ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে তেহরান।
আমেরিকার অবস্থান: এদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ মেনে তিনি জানিয়েছেন, ইরান যদি সততার সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী হয় তবে আমেরিকা হাত বাড়াতে প্রস্তুত। কিন্তু তেহরান যদি কোনো ধরনের ‘চাতুরি’ বা সময় নষ্ট করার কৌশল অবলম্বন করে, তবে মার্কিন প্রতিনিধি দল কঠোরতম পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।
সব মিলিয়ে, ইসলামাবাদের এই শান্তি বৈঠক এখন এক অনিশ্চিত সুতোর ওপর দাঁড়িয়ে। বিশ্ববাসীর নজর এখন মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।





