বিশ্ববাজারে তেলের দামে ‘বিস্ফোরণ’! হরমুজ প্রণালী বন্ধ হতেই কি ফের মহার্ঘ্য হবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস?

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে ফের বড়সড় অস্থিরতা। গত কয়েকদিন ব্যারেল প্রতি ১০০-১০২ ডলারের আশেপাশে ঘোরাফেরা করার পর, হঠাৎ করেই উল্কার গতিতে বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড (Brent Crude) ইতিমধ্যেই ১১১ ডলার অতিক্রম করেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে সাধারণ মানুষের পকেটে।

কেন এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভারসাম্যহীনতার পেছনে রয়েছে একাধিক ভূ-রাজনৈতিক কারণ:

হরমুজ প্রণালী সংকট: বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে।

পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা: মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে চলমান অস্থিরতা তেলের বাজারকে আরও তপ্ত করে তুলেছে।

উৎপাদন হ্রাস: প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো চাহিদা বাড়লেও পাল্লা দিয়ে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে, ফলে চাহিদা ও জোগানের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিস্তর ফারাক।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪.১৭% বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১১.৮৬৩ ডলারে পৌঁছেছে। গত এক বছরে এই বৃদ্ধির হার প্রায় ৫৫.৪৩%। পিছিয়ে নেই মার্কিন বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই (WTI)-ও। এর দাম ব্যারেল প্রতি ৯৯.৬৭ ডলারে ঠেকেছে, যা যে কোনো মুহূর্তে ১০০ ডলারের গণ্ডি পেরিয়ে যেতে পারে।

রক্তক্ষরণ শেয়ার বাজারে:
তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজারে ব্যাপক ধস নেমেছে।

ভারত: নিফটি ২.৪৫% পড়ে গিয়ে বর্তমানে ২৩,২১৮ পয়েন্টে লেনদেন করছে।

আমেরিকা: ডাও জোনস এবং এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকেও বড় পতন দেখা গেছে।

এশিয়া: জাপানের নিক্কেই ২.৫৫% পড়ে বড়সড় লোকসানের মুখে।

তেলের দাম বাড়লে সরাসরি পরিবহণ খরচ বেড়ে যায়। এর ফলে চাল, ডাল, সবজি থেকে শুরু করে সমস্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, বিশ্ববাজারের এই তেলের লড়াই শেষমেশ আমজনতার হেঁশেলেই টান দিতে চলেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy