বেজে গিয়েছে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণভেরি। পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত ২০২১ সালের নির্বাচনের তুলনায় এবারের লড়াই হতে চলেছে একেবারেই আলাদা। বদলে গিয়েছে ভোটগ্রহণের পদ্ধতি থেকে শুরু করে ভোটার তালিকা এবং প্রচারের ইস্যুও।
কেন এবারের ভোট অন্যরকম?
১. ৮ নয়, মাত্র ২ দফায় ভোট: ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ দেখেছিল দীর্ঘ আট দফার ক্লান্তিকর ভোট। কিন্তু ২০২৬-এ ছবিটা বদলে যাচ্ছে। এবার মাত্র দুই দফায় (২৩ ও ২৯ এপ্রিল) ভোটগ্রহণ হবে। রাজনৈতিক দলগুলির দাবি মেনেই এই সিদ্ধান্ত। পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকায় এবং ভোটারদের উৎসাহ বজায় রাখতে এই সংক্ষিপ্ত দফার পথে হেঁটেছে কমিশন।
২. ভোটার তালিকায় বড় রদবদল: সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো ভোটার সংখ্যা। ২০২১ সালে রাজ্যে ভোটার ছিল প্রায় ৭ কোটি ৩৪ লক্ষ, যা ২০২৬-এ কমে দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৪৫ লক্ষ ৬০ হাজারে। অর্থাৎ প্রায় ৮৮ লক্ষ ভোটার কমেছে। এর পেছনে ‘SIR’ (Supplementary Inter-Regional list) এবং আসন পুনর্বিন্যাসের বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও নতুন করে যুক্ত হয়েছেন ৫ লক্ষ ২৩ হাজার তরুণ ভোটার।
৩. ইস্যুর লড়াই: বিজেপি বনাম তৃণমূল
-
বিজেপির হাতিয়ার: এবার গেরুয়া শিবির সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ না করে গুরুত্ব দিচ্ছে নারী নিরাপত্তা, দুর্নীতি এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজ্যের অনীহার ওপর।
-
তৃণমূলের পাল্টা: শাসকদল বরাবরের মতোই ‘বাঙালি অস্মিতা’ এবং কেন্দ্রীয় বঞ্চনাকে সামনে রাখছে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘SIR’ বিরোধিতার সুর।
৪. আমজনতার আসল মাথাব্যথা: সমীক্ষা বলছে, এবার রাজনীতির চেয়েও বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে বেকারত্ব। প্রায় ৩৩ শতাংশ মানুষের মতে, কর্মসংস্থানের অভাবই রাজ্যের প্রধান সমস্যা। পাশাপাশি স্থানীয় বিধায়কদের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান-বিরোধী হাওয়াও ভোটের ফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
আগামী ৪ মে জানা যাবে বাংলার মসনদে কে বসছে। তবে গ্রীষ্মের দাবদাহের সঙ্গেই যে ২০২৬-এর নির্বাচনী উত্তাপ পাল্লা দিয়ে বাড়বে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।