তীব্র দাবদাহের মধ্যে উত্তরপ্রদেশ জুড়ে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। মে মাসে রাজ্যের একাধিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ঘাটামপুর, ললিতপুর, ওবরা-সহ ডজনখানেক বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট দিনের পর দিন বন্ধ থাকায় গ্রামীণ এলাকায় অন্ধকার নেমে এসেছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, আকাশছোঁয়া বিদ্যুৎ বিল নেওয়া হলেও পরিষেবার মান তলানিতে।
উত্তরপ্রদেশ রাজ্য বিদ্যুৎ গ্রাহক পরিষদের চেয়ারম্যান অবধেশ কুমার বর্মা এই সংকটের জন্য সিস্টেমের অন্দরে ২ কোটি কিলোওয়াটের গরমিল, জনবলের চরম অভাব এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ছাঁটাইকে দায়ী করেছেন। তাঁর দাবি, রক্ষণাবেক্ষণ ও কয়লা ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অবহেলা করা হয়েছে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন, তবুও বিদ্যুৎ কর্পোরেশনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বর্মা।
বর্তমানে ঘাটামপুর (৬৬০ মেগাওয়াট) ১৮ দিন ধরে এবং ললিতপুর (৬৬০ মেগাওয়াট) ১১ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। সামগ্রিকভাবে হাজার হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন বন্ধ থাকায় কৃষক, ছাত্র ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। দ্রুত নিষ্ক্রিয় ইউনিটগুলো পুনরায় চালু করা এবং সিস্টেমের ক্ষমতা বাড়ানোর দাবিতে সরব হয়েছেন ভোক্তা পরিষদ। সরকার যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের এই ভয়াবহ চিত্র উত্তরপ্রদেশের সাধারণ মানুষের জনজীবনকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলবে।





