বিরিয়ানির বিলে ৭০,০০০ কোটির ফাঁকি! কীভাবে চলত এই ডিজিটাল জালিয়াতি?

বিরিয়ানির প্লেটে এবার আয়কর দফতরের কড়া নজর। হায়দরাবাদের একটি জনপ্রিয় বিরিয়ানি চেইনে তল্লাশি চালাতে গিয়ে চোখ কপালে ওঠার মতো তথ্য পেলেন আধিকারিকরা। তদন্তে দেখা গিয়েছে, বিলিং সফটওয়্যারে কারচুপি করে গত কয়েক বছরে প্রায় ৭০,০০০ কোটি টাকার ব্যবসা গোপন করা হয়েছে। এই ঘটনার পরেই তটস্থ গোটা দেশের রেস্তোরাঁ মহল।

যেভাবে চলত ‘বিল ভ্যানিশ’ জালিয়াতি

আয়কর দফতর সূত্রে খবর, এই জালিয়াতির মূলে রয়েছে একটি বিশেষ বিলিং সফটওয়্যার। তদন্তে জানা গিয়েছে:

  • নগদ লেনদেন মুছে ফেলা: গ্রাহক নগদ টাকা দিলে সেই বিল জেনারেট হওয়ার পর সফটওয়্যার থেকে তা স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা হতো।

  • বাল্ক ডিলিট: অনেক ক্ষেত্রে এক মাসের সমস্ত নগদ বিক্রির তথ্য একসঙ্গে ডিলিট করে দেওয়া হতো যাতে ট্যাক্স কম দিতে হয়।

  • গড়মিল: তদন্তকারীরা দেখেছেন, রেস্তোরাঁয় গ্রাহকদের ভিড় থাকলেও দিনের শেষে নথিতে বিক্রির পরিমাণ দেখানো হতো নামমাত্র।

এআই (AI) দিয়ে পর্দাফাঁস

আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে আয়কর দফতর প্রায় ১.৭৭ লক্ষ রেস্তোরাঁ আইডি এবং ৬০ টেরাবাইট তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে ডিলিট করে দেওয়া বিলগুলোর ‘ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট’ খুঁজে পেয়েছেন আধিকারিকরা। দেখা গিয়েছে, অনেক রেস্তোরাঁ তাদের মোট বিক্রির অন্তত ২৫ শতাংশ তথ্য গোপন করত।

হায়দরাবাদ থেকে মুম্বই— সর্বত্র হানা

প্রাথমিকভাবে হায়দরাবাদের বিরিয়ানি চেইনগুলোতে এই কারচুপি ধরা পড়লেও, এখন তদন্তের পরিধি অনেক বেড়েছে।

  • শহর: বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, মুম্বই, পুণে এবং দিল্লির মতো বড় শহরের রেস্তোরাঁ চেইনগুলো এখন স্ক্যানারের তলায়।

  • মুনাফা বনাম ফাঁকি: ২০১৯-২০ অর্থবর্ষ থেকে চলা এই জালিয়াতির মাধ্যমে কয়েক হাজার কোটি টাকার জিএসটি (GST) এবং আয়কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে অনুমান।

সতর্কবার্তা রেস্তোরাঁ মালিকদের

আয়কর দফতর জানিয়েছে, বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট বিলিং প্ল্যাটফর্মকে কেন্দ্র করে তদন্ত চললেও ভবিষ্যতে অন্য সব পয়েন্ট-অব-সেল (POS) সিস্টেমকেও পরীক্ষা করা হবে। ডিজিটাল লেনদেনের যুগে তথ্য মুছে দিয়ে পার পাওয়া যে আর সম্ভব নয়, এই অভিযান তারই বড় উদাহরণ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy