বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের রণভেরি বেজে গিয়েছে। আর সেই মহারণের মহড়া দিতেই আজ কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মহামিছিলে শামিল হতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। আজকের এই মেগা সভার মধ্যমণি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে কার্যত উৎসবের মেজাজ গেরুয়া শিবিরে।
বাঙালিয়ানার ছোঁয়ায় মোদীর ‘মাস্টারস্ট্রোক’ এবারের ব্রিগেড সমাবেশে বিজেপি শুধুমাত্র রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে না, বরং তারা যে ‘হিন্দি বলয়ের পার্টি’ নয়—সেই তকমা ঝেড়ে ফেলতে মরিয়া। গেরুয়া সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আজ প্রবলভাবে উঠে আসতে পারে বাঙালিয়ানার আবেগ। তৃণমূল বিরোধিতার সুর চড়িয়ে সরকার পরিবর্তনের ডাক দেওয়ার পাশাপাশি মোদী আজ নিজেকে ‘বাংলার আপন’ হিসেবে তুলে ধরতে পারেন।
ব্রিগেডের সভায় সুকান্ত মজুমদার বললেন, ‘বিজেপি বলেই এমন এত মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত যোগদান সম্ভব হয়েছে। এটা তৃণমূল কোনওদিনই পারবে না। তৃণমূল হলে বিরিয়ানির প্যাকেটের লোভ দেখিয়ে লোক আনতে হত।’
মঞ্চসজ্জায় শিল্পের ছোঁয়া: দক্ষিণেশ্বর থেকে টেরাকোটা এবারের সভার অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে এর অভিনব মঞ্চ। দলীয় সূত্রে খবর:
-
দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরের আদলে তৈরি হয়েছে মূল তোরণ ও মঞ্চের কাঠামো।
-
মঞ্চের অলঙ্করণে থাকছে কোচবিহারের রাজবাড়ির ঐতিহ্যবাহী ছবি।
-
বাঁকুড়ার বিখ্যাত টেরাকোটার ঘোড়া থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের সবুজ অরণ্যের প্রতিচ্ছবি—সবই ফুটিয়ে তুলছেন বাংলার ১২ জন স্বনামধন্য শিল্পী।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্রিগেড মঞ্চে মিঠুন চক্রবর্তী, রাহুল সিনহা ও দিলীপ ঘোষ। দীর্ঘদিন পর নরেন্দ্র মোদীর কোনও জনসভায় দেখা গেল দিলীপ ঘোষকে।
রাজনীতি ও উন্নয়নের মেলবন্ধন এদিনের কর্মসূচিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। একদিকে যেমন থাকছে রাজনৈতিক জনসভা, অন্যদিকে তেমনই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অনুষ্ঠান। ব্রিগেড থেকেই প্রধানমন্ত্রী রাজ্যের একাধিক নতুন রাস্তা ও রেল প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন বলে জানা গিয়েছে।
ভোটের আগে এই সমাবেশ যে বঙ্গ বিজেপির কর্মীদের আত্মবিশ্বাস কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই রাজনৈতিক মহলে। এখন নজর একটাই—আজকের ‘মেগা সানডে’-তে ব্রিগেডের জনসমুদ্র থেকে মোদী ঠিক কী বার্তা দেন।