রসালো তরমুজ আর গরম গরম বিরিয়ানি— কার না প্রিয়? কিন্তু এই দুই প্রিয় খাবারের মেলবন্ধন যে আস্ত একটা পরিবারকে শ্মশানে পাঠিয়ে দেবে, তা স্বপ্নেও ভাবেনি কেউ। মুম্বইয়ের আব্দুল্লাহ পরিবারে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি এখন সারা দেশের মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। একই পরিবারের চার সদস্যের এই রহস্যমৃত্যু কেবল শোকের নয়, বরং বড় এক সতর্কবার্তার নামান্তর।
মর্মান্তিক সেই রাতের ঘটনা
গত রবিবার রাতে মুম্বইয়ের ওই পরিবারে ছিল বিশেষ ভোজের আয়োজন। অতিথিদের আপ্যায়নে রান্না হয়েছিল সুস্বাদু বিরিয়ানি। আমন্ত্রিতরা খেয়ে যাওয়ার সময় পর্যন্ত সকলেই দিব্যি সুস্থ ছিলেন। কিন্তু পরিবারের চার সদস্য বিরিয়ানি খাওয়ার পর ‘ডেজার্ট’ হিসেবে তরমুজ খেয়েছিলেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় অসহ্য পেট যন্ত্রণা এবং বমি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তাঁরা।
কেন দানা বাঁধছে রহস্য?
তদন্তকারী এবং চিকিৎসকদের মনে এখন ঘোরাফেরা করছে একাধিক প্রশ্ন:
রাসায়নিক বিক্রিয়া না কি বিষক্রিয়া? বিরিয়ানি তৈরিতে ব্যবহৃত মশলা বা তেলের সঙ্গে তরমুজের কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তরমুজের মান: অনেক সময় ফল তাজা দেখাতে ক্ষতিকর ইরিথ্রোসিন ইনজেকশন বা রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। সেই বিষক্রিয়া থেকেই কি এই অকাল মৃত্যু?
বিপরীত আহার: আয়ুর্বেদ ও আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানে অনেক সময় ভারী খাবারের (বিশেষত মাংস) সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু ফল খাওয়াকে ‘বিপরীত আহার’ হিসেবে দেখা হয়। এই কম্বিনেশনই কি ফুড পয়জনিংকে মারাত্মক পর্যায়ে নিয়ে গেল?
চিকিৎসকদের প্রাথমিক মতামত
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মারাত্মক ‘টক্সিক ফুড পয়জনিং’-এর মামলা হতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং খাবারের ল্যাবরেটরি পরীক্ষার আগে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। পুলিশ ইতিমধ্যেই সেই রাতের খাবারের নমুনা সংগ্রহ করেছে।
সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষ সতর্কতা
এই ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, খাবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমাদের কতটা সচেতন হওয়া জরুরি।
বাইরের ফল কেনার সময় তার রঙ বা আকার দেখে অতিরিক্ত উজ্জ্বল ফল এড়িয়ে চলুন।
ভারী খাবারের ঠিক পরেই প্রচুর পরিমাণে জলীয় ফল (যেমন তরমুজ বা শশা) না খাওয়াই শ্রেয়।
খাবার খাওয়ার পর সামান্যতম অস্বস্তি বোধ করলে ঘরোয়া টোটকার ভরসায় না থেকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
মুম্বইয়ের এই পরিবারটির পরিণতি যেন আর কারোর না হয়, সেই শিক্ষাই এখন ছড়িয়ে পড়ছে নেটদুনিয়ায়।





