নদীয়ার ফুলিয়ায় ভয়াবহ দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের একবার রক্তাক্ত হলো ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক। বুধবার সকালে রানাঘাটের চূর্ণী সেতুর ওপর ঘটে যাওয়া এক বীভৎস পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন একই পরিবারের তিন সদস্য। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন স্বামী, স্ত্রী এবং তাঁদের মাত্র পাঁচ বছর বয়সী এক সন্তান। মর্মান্তিক এই ঘটনায় শান্তিপুরের ফুলিয়াপাড়া নিমতলা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের কালো ছায়া।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম সুজল ঘোষ, ছায়া ঘোষ এবং তাঁদের শিশুসন্তান। শান্তিপুর থানার ফুলিয়া বেলঘড়িয়া এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা সুজল বাবু সপরিবারে মঙ্গলবার বনগাঁয় এক আত্মীয়ের বাড়িতে বিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। বুধবার সকালে নিজেদের বাইকে করেই বনগাঁ থেকে ফুলিয়ার বাড়িতে ফিরছিলেন তাঁরা। রানাঘাটের চূর্ণী সেতুর ওপর আসতেই ঘটে যায় সেই চরম বিপর্যয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, একটি দ্রুতগামী ১৬ চাকার লরি পিছন থেকে সজোরে ধাক্কা মারে সুজল বাবুর মোটরবাইকটিকে। ধাক্কার তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, বাইকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লরির পিছনের চাকার তলায় ঢুকে যায়। লরির ভারি চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সুজল ঘোষ ও তাঁর স্ত্রী ছায়া ঘোষের। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত রক্তাক্ত অবস্থায় পাঁচ বছরের শিশুটিকে উদ্ধার করে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শ্যামপদ রায় অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনে জানান, “ওরা যখন বাইকে আসছিল, ঘাতক লরিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিছন থেকে পিষে দিয়ে চলে যায়। বাচ্চাটাকে বাঁচানোর অনেক চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল।” অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শী শুভঙ্কর সাহার কথায়, “বিয়েবাড়ি থেকে ফেরার পথে যে এমন মর্মান্তিক পরিণতি হবে, কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। আস্ত একটা পরিবার শেষ হয়ে গেল চোখের সামনে।”
উল্লেখ্য, মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগেই ফুলিয়ার ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে একটি ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং আহত হয়েছিলেন ১৫ জন। সেই ঘটনার ক্ষত শুকোনোর আগেই রানাঘাটের এই দুর্ঘটনা জাতীয় সড়কের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। একই পরিবারের তিন জনের মৃত্যুতে এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ঘাতক লরিটিকে আটক করার চেষ্টা করছে এবং দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।





