আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন, যা পুজো কমিটিগুলির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক প্রশাসনিক বৈঠক থেকে তিনি পুজো কমিটিগুলির জন্য বিদ্যুতের বিলে ৮০ শতাংশ ছাড় এবং অনুদান ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করার কথা ঘোষণা করেন। তবে তাঁর এই ঘোষণাকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
বিদ্যুৎ বিল ও অনুদানে বড় স্বস্তি:
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দুর্গাপূজা কমিটিগুলিকে বিদ্যুতের বিলে এবার ৮০ শতাংশ মকুব করা হবে। এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সিইএসই এবং রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন পর্ষদকে। গত বছর এই ছাড়ের পরিমাণ ছিল ৭৫ শতাংশ।
পাশাপাশি, পুজো অনুদানের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। গত বছর যেখানে প্রতিটি ক্লাব ৮৫ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছিল, এবার সেই অঙ্ক বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। রাজ্যে মোট ৪৫ হাজারেরও বেশি ক্লাব রয়েছে, যার মধ্যে ছোট ক্লাব এবং ফ্ল্যাটের পুজোও অন্তর্ভুক্ত।
কার্নিভাল ও বিসর্জন:
মুখ্যমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন, ৫ই অক্টোবর কলকাতায় পুজো কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া যাবে ২, ৩ এবং ৪ অক্টোবর।
মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তাবার্তা:
পুজোর সময় আইন-শৃঙ্খলা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি পুলিশ ও পুজো কমিটিগুলিকে একাধিক নির্দেশিকা দেন:
মহিলাদের নিরাপত্তা: পুজোর শহরে মহিলাদের নিরাপত্তা বাড়াতে হবে। বয়োজ্যেষ্ঠ ও শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। স্বেচ্ছাসেবকের সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
ঘোষণার ব্যবস্থা: প্যান্ডেলের ভিতরে ও বাইরে সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ঘোষণার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
প্রবেশ ও বাহিরের পথ: পুজো প্যান্ডেলে প্রবেশ ও বাহিরের পথ আলাদা রাখতে হবে যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।
জনকল্যাণমূলক নির্দেশিকা: পুজো প্রাঙ্গণে রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক নির্দেশিকা প্রদর্শিত করতে হবে।
পরিবহন ব্যবস্থা: পুজোর ভিড়ের কথা মাথায় রেখে পরিবহন বিভাগকে অতিরিক্ত গাড়ি চালাতে হবে। মেট্রো ও ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবা: হাসপাতাল ও অ্যাম্বুলেন্সগুলিকে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য সজাগ থাকতে হবে।
পদপিষ্ট রোধ: ভিড়ের কারণে যাতে কোনো পদপিষ্টের ঘটনা না ঘটে, সেদিকে পুজো কমিটিগুলিকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
দমকলের জোন বিন্যাস: ফায়ার ব্রিগেডকে জোন অনুযায়ী ভাগ করে প্রস্তুত থাকতে হবে।
বিরোধীদের কটাক্ষ:
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষ করে বলেন, “যা পারেন করুন। চাকরি দিন। ৬ লক্ষ চাকরির পোস্ট খালি আছে। ডিএ-টা দিন।” তাঁর এই মন্তব্য অনুদান ঘোষণার আবহে রাজনৈতিক বিতর্ক উস্কে দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, এবারের দুর্গাপূজা আয়োজনে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে, যা উৎসবকে আরও নির্বিঘ্ন ও আনন্দময় করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।





