বিদেশের পাসপোর্ট নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য! শীর্ষ আদালতে ধাক্কা খেয়ে গ্রেফতারির আশঙ্কায় কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র?

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার পরিবারের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য করে এবার আইনি জালে কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র পবন খেরা। তাঁর আগাম জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন শুক্রবার খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে পবন খেরার গ্রেফতারির সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

বিতর্কের সূত্রপাত: এপ্রিলের শুরুতে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে পবন খেরা দাবি করেছিলেন যে, হিমন্ত-পত্নী রিনিকি ভূঞা শর্মার কাছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, মিশর এবং অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বার্বুডার পাসপোর্ট রয়েছে। এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা ও মানহানিকর’ বলে দাবি করে অসমে এফআইআর দায়ের করেন রিনিকি। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থে তাঁর ও তাঁর পরিবারের সম্মানহানি করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থান: তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট আগে খেরাকে এক সপ্তাহের ট্রানজিট বেল বা অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা দিয়েছিল। অসম সরকার এর বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। আজ বিচারপতি জে.কে. মাহেশ্বরী ও বিচারপতি অতুল এস. চন্দুরকরের বেঞ্চ সেই সুরক্ষা স্থগিত করে দিয়েছে। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে:

  • তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের এই সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টি ‘বিস্ময়কর’।

  • পবন খেরাকে যদি সুরক্ষা পেতে হয়, তবে তাঁকে সরাসরি অসমের সংশ্লিষ্ট আদালতে গিয়ে আবেদন করতে হবে।

  • যথাযথ আদালত নিজস্ব বিচারবুদ্ধি অনুযায়ী খেরার আগাম জামিনের সিদ্ধান্ত নেবে।

এখন কী করবেন খেরা? আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পবন খেরার সামনে এখন একটাই রাস্তা— অসমের আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ বা আগাম জামিনের আবেদন করা। আদালত যদি বন্ধ থাকে, তবে রেজিস্ট্রিতে আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

রাজনৈতিক উত্তাপ: বিজেপি শিবিরের দাবি, পবন খেরা সস্তা প্রচারের জন্য কুৎসা রটিয়ে এখন আইন থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেসের দাবি— এটি প্রতিহিংসার রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই নয়। কেন্দ্রীয় এজেন্সির পাশাপাশি এখন রাজ্য পুলিশকেও বিরোধীদের কণ্ঠরোধে ব্যবহার করা হচ্ছে।

হিমন্ত দাপটে পবন খেরার এই ‘অসম যাত্রা’ এখন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম চর্চিত বিষয়। তিনি কি শেষ পর্যন্ত অসম পুলিশের হাতে গ্রেফতার হবেন? উত্তরের অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy