২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার আগেই রাজ্যে প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল ঘটাল নির্বাচন কমিশন। এবার কোপ পড়ল খোদ নির্বাচনী দপ্তরের অন্দরেই। রাজ্যের ডেপুটি চিফ ইলেক্টোরাল অফিসার (Deputy CEO) সুব্রত পালকে সরিয়ে দেওয়া হলো। তাঁর জায়গায় নতুন যুগ্ম সিইও পদে আনা হয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব রাহুল নাথকে।
রদবদলের মেগা তালিকা: শুধুমাত্র সুব্রত পালই নন, কমিশনের নির্দেশে ডব্লিউবিসিএস (WBCS) অফিসারদের মধ্যেও রদবদল করা হয়েছে:
-
নরেন্দ্রনাথ দত্ত (১৯৯৮ ব্যাচ): শ্রম দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব পদে বদলি।
-
সুপ্রিয় দাস (২০০০ ব্যাচ): খাদ্য, প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানপালন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব।
-
মিঠু দত্ত (২০০৪ ব্যাচ): সংখ্যালঘু বিষয়ক এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের যুগ্ম সচিব।
কমিশনের কড়া নজর বনাম শাসকদলের তোপ: ভোটের কাজে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে গত কয়েকদিন ধরেই দফায় দফায় বদলির নির্দেশ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। যদিও এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই রদবদল করা হচ্ছে।
গত কয়েকদিনের অ্যাকশন একনজরে: কমিশন যে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে নারাজ, তা গত কয়েকদিনের এই পরিসংখ্যানগুলি থেকেই স্পষ্ট:
-
১৮ মার্চ: ১০ জন আইপিএস আধিকারিককে বদলি, যার মধ্যে বিধাননগর ও শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনাররাও ছিলেন।
-
২৫ মার্চ: পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসককে অপসারণ। তাঁর বদলে দায়িত্ব নেন ২০০৭ ব্যাচের আইএএস অফিসার নিরঞ্জন কুমার।
-
২৯ মার্চ: একসঙ্গে ৮৩ জন বিডিও-কে বদলি। তালিকায় ছিল হাই-ভোল্টেজ নন্দীগ্রাম ১ ও ২ নম্বর ব্লকের বিডিও-রাও।
এমনকি মালদহে তৃণমূলের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পর্যবেক্ষক জয়ন্ত কান্তকেও সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিহার ক্যাডারের আইপিএস হৃদয় কান্তকে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে রাশ নিজেদের হাতে রাখতে কমিশন যে আরও কড়া পদক্ষেপ নেবে, এই বদলি তারই ইঙ্গিত।