বিজেপিতে গেলেই কি ‘নির্মা’ ম্যাজিক? কেন্দ্রীয় সংস্থার বিদায় চেয়ে এবার সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা তৃণমূলের!

ভোটের দামামা বাজতেই ফের উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি। এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে রাজ্য থেকে সরানোর দাবিতে সরব হলো তৃণমূল কংগ্রেস। আই-প্যাক (I-PAC)-এর কো-ফাউন্ডার ভিনেশ চান্ডেলের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার তিলোত্তমার রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এই ঘটনাকে ‘নির্বাচনী নাশকতা’ বলে তোপ দেগেছে ঘাসফুল শিবির।

ইডির নতুন নাম দিলেন ডেরেক!

মঙ্গলবার কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ED-র নতুন নামকরণ করেন। ইডি-কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, এটি এখন ‘Extremely Desperate’ সংস্থায় পরিণত হয়েছে। তাঁর সাফ দাবি, “ভোটের ঠিক ১০ দিন আগে এই গ্রেফতারি আইন প্রয়োগ নয়, বরং বিরোধীদের কোণঠাসা করার নীল নকশা। আমরা ভিনেশ চান্ডেলের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তি চাই।”

‘নির্মা এফেক্ট’ ও ০.১ শতাংশের অঙ্ক

তদন্তকারী সংস্থাগুলির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ডেরেক দাবি করেন, ইডির মামলাগুলির মাত্র ০.১ শতাংশে দোষী সাব্যস্ত হয়। তবে কেন এত অভিযান? বিজেপিকে নিশানা করে তিনি ‘নির্মা এফেক্ট’-এর উদাহরণ টানেন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলের ২৫ জন নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা থাকলেও, তাঁদের মধ্যে ২৩ জন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর রাতারাতি ‘ধোয়া তুলসীপাতা’ হয়ে গিয়েছেন। ডেরেক বলেন, “বিজেপিতে যোগ দিলেই যেন একটা নির্মার প্যাকেট উপহার দেওয়া হয়, যা দিয়ে সব কলঙ্ক ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায়।”

ভোটের মুখে তপ্ত বাংলা

ভিনেশ চান্ডেলের গ্রেফতারি এখন বাংলার নির্বাচনী রাজনীতির অন্যতম প্রধান ইস্যু। তৃণমূল যেখানে একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলছে, সেখানে বিজেপির দাবি— আইন নিজের পথেই চলছে এবং দুর্নীতির সাথে কোনও আপস করা হবে না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy