দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর এবং চেয়ারম্যান-ইন-কাউন্সিল সঞ্জয় দাসের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়াল গোটা রাজ্যে। শনিবার সকালে তাঁর নিজ বাসভবন থেকেই সঞ্জয়বাবুর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তড়িঘড়ি তাঁকে নাগেরবাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, এটি আত্মহত্যাজনিত ঘটনা। তবে নেপথ্যে অন্য কোনো রহস্য আছে কি না, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
নিহত সঞ্জয় দাস ছিলেন রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি এবং দেবরাজ চক্রবর্তীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। অকাল মৃত্যুর খবর পেয়েই শোকস্তব্ধ অদিতি মুন্সি হাসপাতালে ছুটে যান। এই ঘটনায় মৃতের পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরাও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
তবে এই মৃত্যু ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি কিরণ ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, এটি নিছক আত্মহত্যা নয়, এর পেছনে রয়েছে চরম মানসিক চাপ ও হুমকির ঘটনা। কিরণবাবুর কথায়, “সঞ্জয় দাসকে সম্প্রতি বেশ কিছু লোক হুমকি দিয়েছিল। তারা তার কাছে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিল। ওই ছেলেরা আগে তৃণমূলে থাকলেও বর্তমানে বিজেপিতে সক্রিয়। ধমকের মুখে পড়ে সঞ্জয় ১০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বললেও তারা টাকা আদায়ে চাপ সৃষ্টি করে। এই চাপ সহ্য করতে না পেরেই ও আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে।”
কিরণ ভট্টাচার্য আরও বলেন, “আমি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে কথা বলব, কারণ বিজেপি এই ধরনের অসামাজিক কাজ বরদাস্ত করবে না। আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি, যাঁরা সঞ্জয়কে হুমকি দিতে গিয়েছিল, তাদের অবিলম্বে খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনা হোক।”
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে দুর্নীতির অভিযোগে একের পর এক তৃণমূল কাউন্সিলর পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন। বিধাননগর পৌরনিগমের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সমরেশ চক্রবর্তী, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সুশোভন মণ্ডল, এবং ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের রঞ্জন পোদ্দারকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমনকি মাত্র একদিন আগেই দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলর পার্থ ভার্মাকে দুর্নীতির অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করে। দুর্নীতির তদন্তে পুলিশের এই লাগাতার ধরপাকড়ের আবহেই সঞ্জয় দাসের মৃত্যু রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যে রাজনৈতিক মেরুকরণের যে খেলা চলছে, তার প্রভাব কি কোনোভাবে এই মর্মান্তিক পরিণতির পেছনে রয়েছে? নাকি ব্যক্তিগত কোনো আক্রোশ থেকে এই ঘটনা? সবদিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সঞ্জয় দাসের মতো একজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধির মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রশাসন এখন গোটা ঘটনার ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে আছে।





