ফের প্রশ্নের মুখে চিতা হেলিকপ্টারের নিরাপত্তা! লাদাখ দুর্ঘটনার পর বড় পদক্ষেপ ভারতীয় সেনার

ভারতের সামরিক ইতিহাসে অন্যতম ভরসাযোগ্য বিমান হিসেবে পরিচিত ‘চিতা’ লাইট হেলিকপ্টার ফের বড় দুর্ঘটনার কবলে পড়ল। শনিবার লাদাখ সেক্টরে অপারেশন চলাকালীন সেনার একটি চিতা হেলিকপ্টার আচমকাই দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন দুইজন পাইলট এবং ওই ডিভিশনের কমান্ডার মেজর জেনারেল সচিন মেহতা। তবে স্বস্তির খবর হলো, সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে এই তিন সামরিক আধিকারিকই স্থিতিশীল এবং বিপদমুক্ত অবস্থায় রয়েছেন।

লাদাখের মতো দুর্গম ও প্রতিকূল উচ্চ পার্বত্য এলাকায় অভিযানের কাজে চিতা হেলিকপ্টার দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে এই সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পর ফের একবার এই বহু পুরনো হেলিকপ্টার বহরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। ১৯৭০-এর দশক থেকে ভারতীয় সেনার পরিষেবায় থাকা এই কপ্টারগুলি ১৯৮৪ সালে সিয়াচেনে ‘অপারেশন মেঘদূত’-এর সময় অসামান্য কৃতিত্ব দেখিয়েছিল। পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে এই হেলিকপ্টারগুলির ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। কিন্তু গত কয়েক দশকে চিতা হেলিকপ্টারের একাধিক দুর্ঘটনায় বহু দক্ষ পাইলটকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো প্রযুক্তির এই বিমানগুলো বারবার সমালোচনার মুখে পড়লেও, দুর্গম এলাকায় এগুলোর কার্যকারিতার ওপর ভরসা করে এসেছে সেনা।

দুর্ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় মেজর জেনারেল সচিন মেহতার একটি সেলফি ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে নেটপাড়ায় ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে ঠিক কোন পরিস্থিতির চাপে বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই কপ্টারটি ভেঙে পড়ল, তা নিয়ে ইতিমধ্যে নড়েচড়ে বসেছে সামরিক কর্তৃপক্ষ। সেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ‘কোর্ট অফ ইনকোয়ারি’ বা উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধের কৌশলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার চিতা হেলিকপ্টার বহরকে অবসর দেওয়ার সময় এসেছে। সেই লক্ষ্যেই ভারত সরকার ও সেনার তরফে বড়সড় বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে পুরোনো চিতা বহর সরিয়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এর ‘লাইট ইউটিলিটি হেলিকপ্টার’ (LUH) অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ভারতীয় সেনা সীমিত উৎপাদনের ছ’টি LUH-এর বরাত দিয়েছে। নতুন এই প্রযুক্তির হেলিকপ্টারগুলির কার্যকারিতা অনেকটাই বেশি। এই LUH-এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২২০ কিলোমিটার, সার্ভিস সিলিং ৬.৫ কিলোমিটার এবং অপারেশনাল রেঞ্জ ৩৫০ কিলোমিটার। লাদাখের মতো উচ্চতায় এই ধরনের আধুনিক কপ্টার মোতায়েন করা হলে আগামী দিনে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy