রাজ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার সুফল পৌঁছেছে ৫০ লক্ষ মহিলার কাছে। সোমবার বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৩ হাজার টাকা করে পৌঁছে দেওয়া শুরু হয়েছে। আগামী তিন মাস জুড়ে এই প্রকল্পের ফর্ম পূরণ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’
অন্নপূর্ণা যোজনার স্বচ্ছতা নিয়ে জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যোগ্য উপভোক্তাদের কাছে টাকা পৌঁছে দেওয়া আমাদের বড় সাফল্য। যারা সমালোচনায় মেতেছিলেন, তারাও এখন এই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার গুরুত্ব বুঝতে পারছেন।” এরপরই পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন তিনি।
শুভেন্দুর দাবি, “আগের সরকার ২ কোটি ২০ লক্ষ মানুষকে এই সুবিধা দিত। কিন্তু তার মধ্যে ২৭ লক্ষের নাম ভোটার তালিকায় নেই। এমনকী ৩ লক্ষ পুরুষও এই প্রকল্পের টাকা তুলেছেন! মুর্শিদাবাদ ও কৃষ্ণনগরের মতো জায়গায় এর প্রমাণ মিলেছে। এই বিশাল অঙ্কের টাকা কোথায় গিয়েছে? যেখানেই হাত দেওয়া হচ্ছে, সেখান থেকেই পচা দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে। এত দুর্নীতি হয়েছে যে, গোটা ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকে জেল বানিয়ে ফেললেও জায়গা হবে না।” তিনি আরও জানান, সরকার ইতিমধ্যে একটি নিখুঁত ‘ডেটা ব্যাঙ্ক’ তৈরি করে ফেলেছে।
শহিদ পরিবার ও অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে বার্তা
বিজেপি কর্মীদের আত্মবলিদান প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, গত কয়েক বছরে প্রাণ হারানো ৩১৫ জন বিজেপি কর্মীর পরিবারের একজন করে সদস্যকে এই মাসেই সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। পাশাপাশি, তাঁদের পরিবারকে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
এছাড়া রাজ্যের নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতেও কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই ৪ হাজার ৮০০ জন অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং হোল্ডিং সেন্টারে থাকা বাকি ৮৩৬ জনকেও দ্রুত নিজ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ধারাবাহিক ঘোষণায় প্রশাসনিক স্তরে স্বচ্ছতা আনার পাশাপাশি বিরোধী দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্যপ্রমাণ হাজির করে রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল স্পষ্ট বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।




