তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সিআইডি-র পাঠানো নোটিশ নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সিআইডি-র দায়ের করা নোটিশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতৃত্ব। বুধবার বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন জানান। আদালতের নির্দেশে এই মামলাটি এখন আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীর প্রধান দাবি হলো, সিআইডি-র পাঠানো এই নোটিশটি আইনগতভাবে ভিত্তিহীন। অবিলম্বে কলকাতা হাইকোর্ট যেন এই নোটিশটিকে খারিজ করে দেয়, সেই মর্মে আবেদন জানানো হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলার আবেদনপত্র দায়ের করার প্রয়োজনীয় অনুমতি প্রদান করেছেন বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়। সম্ভবত আগামী ৫ জুন, অর্থাৎ গ্রীষ্মকালীন অবকাশকালীন বেঞ্চে এই চাঞ্চল্যকর মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের বিরুদ্ধে সিআইডি-র এই পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। নির্বাচনের পরবর্তী এই উত্তপ্ত আবহে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতার বিরুদ্ধে সিআইডি-র নোটিশ এবং তার পালটা আইনি পথে হাইকোর্টে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের অন্দরেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে আইনি বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ মনে করছে, যেহেতু বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন, তাই ৫ জুনের শুনানি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক কালে বিভিন্ন মামলায় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য তদন্তকারী সংস্থাগুলোর সক্রিয়তা বেড়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও সিআইডি-র নোটিশটি ঠিক কোন ঘটনা বা প্রসঙ্গের ভিত্তিতে জারি করা হয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। একদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বারবার এই ধরনের তদন্তকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দাবি করা হচ্ছে, অন্যদিকে সিআইডি-র কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এখন হাইকোর্টের গ্রীষ্মকালীন অবকাশকালীন বেঞ্চ এই মামলায় কী রায় দেয় বা কোনো অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেয় কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে পরবর্তী পরিস্থিতি। তৃণমূল শিবিরের কাছে এই মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর, কারণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি স্বস্তি বা অস্বস্তি—উভয়ই দলের সামগ্রিক কৌশলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ৫ জুন আদালতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে রাজ্য রাজনীতি।





