উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের আশিয়ানা থানা এলাকায় ঘটে গেল এক নারকীয় হত্যাকাণ্ড। পেশায় প্যাথোলজি মালিক মানবেন্দ্র সিং গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন। ছেলে নিজেই বাবার নামে নিখোঁজ ডায়েরি করেছিল। কিন্তু তদন্তে নেমে পুলিশ যা দেখল, তাতে অভিজ্ঞ তদন্তকারীদেরও হাড়হিম হওয়ার জোগাড়। চুরির ঘটনা ধামাচাপা দিতে নিজের বাবাকে খুন করে দেহ টুকরো টুকরো করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁরই নাবালক ছেলেকে।
নিখোঁজ ডায়েরি ও পুলিশের সন্দেহ: মানবেন্দ্রর ছেলে অক্ষত পুলিশকে জানিয়েছিল, তার বাবা দিল্লি যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরোন এবং তারপর থেকে তাঁর তিনটি ফোনই বন্ধ। ফোনের শেষ লোকেশন কাকোরিতে পাওয়া গেলেও মোবাইলগুলো উদ্ধার হয়নি। অক্ষতর কথায় অসঙ্গতি পাওয়ায় পুলিশ তাকে জেরা করতে শুরু করে। প্রথমে সে আত্মহত্যার তত্ত্ব খাড়া করলেও পুলিশের সাঁড়াশি চাপের মুখে ভেঙে পড়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করে একাদশ শ্রেণির ওই ছাত্র।
ভোররাতের সেই নৃশংসতা: জেরায় অক্ষত জানায়, ২০ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ যখন তার বাবা অঘোরে ঘুমোচ্ছিলেন, তখন বাবারই লাইসেন্সড বন্দুক দিয়ে তাঁর মাথায় গুলি করে সে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে সে বাবার দেহটিকে আড়াআড়ি ভাবে দু’ভাগ করে। শরীরের নিচের অংশটি ছোট ছোট টুকরো করে নির্জন জায়গায় ফেলে এলেও ওপরের অর্ধেক অংশটি একটি নীল ড্রামে ভরে রাখে। এই পুরো ঘটনাটি দেখে ফেলেছিল অক্ষতর বোন, কিন্তু ভাইয়ের রুদ্রমূর্তি দেখে ভয়ে সে সিঁটিয়ে থাকে।
কেন এই খুন? তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রায় ৪ মাস আগে মানবেন্দ্রর বাড়ি থেকে প্রচুর সোনার গয়না নিখোঁজ হয়। প্রথমে পরিচারিকাকে সন্দেহ করলেও পরে মানবেন্দ্র বুঝতে পারেন ছেলেই ওই গয়না সরিয়েছে। পারিবারিক সম্মানের খাতিরে তিনি পুলিশি অভিযোগ প্রত্যাহার করলেও ছেলের ওপর কড়া নজরদারি শুরু করেন। ঘটনার দিন ভোরে মানবেন্দ্র ছেলেকে পড়াশোনা করতে বলেন এবং গয়না চুরির প্রসঙ্গটি তোলেন। এই নিয়ে বচসা শুরু হতেই চরম পথ বেছে নেয় অক্ষত।
ড্রাম খুলতেই বীভৎস দৃশ্য: সোমবার পুলিশ যখন আশিয়ানার ওই বাড়িতে পৌঁছয়, তখন ঘর থেকে পচা মাংসের গন্ধ বেরোচ্ছিল। নীল ড্রামটি খুলতেই মানবেন্দ্র সিংয়ের আধকাটা পচা দেহ উদ্ধার হয়। প্রতিবেশীদের দাবি, এর আগেও বারবার বন্দুক নিয়ে বাবাকে ভয় দেখাত অক্ষত। বর্তমানে তাকে হেফাজতে নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে লখনউ পুলিশ।