বাড়িতে ‘গদ্দার’ লিখে বিক্ষোভ আপ কর্মীদের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভাজ্জির সুরক্ষায় মোতায়েন সিআরপিএফ

আম আদমি পার্টি (আপ) ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বড়সড় ‘পুরস্কার’ পেলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা রাজ্যসভা সাংসদ হরভজন সিং। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে এখন থেকে সিআরপিএফ (CRPF)-এর শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয়ে থাকবেন তিনি। পাঞ্জাব পুলিশ তাঁর নিরাপত্তা প্রত্যাহার করার ঠিক পরের দিনই এই পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র।

নিরাপত্তা বলয়ে বড় বদল
শনিবার পাঞ্জাব পুলিশ হরভজনের নিরাপত্তা থেকে ৯-১০ জন আধিকারিককে সরিয়ে নেয়। কিন্তু রবিবার সকাল হতেই দেখা যায়, জলন্ধরে ভাজ্জির বাসভবনের বাইরে মোতায়েন করা হয়েছে সিআরপিএফ জওয়ানদের। জানা গিয়েছে, দিল্লি এবং পাঞ্জাব— উভয় জায়গাতেই এখন থেকে এই কেন্দ্রীয় বাহিনীর কমান্ডোরা তাঁর সুরক্ষার দায়িত্ব সামলাবেন।

বাড়ির দেওয়ালে ‘গদ্দার’ তকমা!
হরভজনের বিজেপি-তে যোগদানের খবরে উত্তাল পাঞ্জাব রাজনীতি। শনিবার জলন্ধরে তাঁর বাড়ির বাইরে বিক্ষোভ দেখান ক্ষুব্ধ আপ কর্মীরা। অভিযোগ উঠেছে, বিক্ষোভকারীরা হরভজনের বাড়ির সীমানা প্রাচীরে স্প্রে-পেইন্ট দিয়ে ‘গদ্দার’ (বিশ্বাসঘাতক) লিখে দিয়েছেন। কেবল হরভজন নন, অশোক মিত্তল ও রাজিন্দর গুপ্তের মতো নেতাদের বাড়ির সামনেও একই ধরনের প্রতিবাদ চলে।

কেন এই গণ-দলত্যাগ?
রাঘব চাড্ডার নেতৃত্বে আপ-এর মোট সাতজন রাজ্যসভা সাংসদ (হরভজন সিং, স্বাতী মালিওয়াল, সন্দীপ পাঠক প্রমুখ) একসঙ্গে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাঘব চাড্ডা অভিযোগ করেন:

“আম আদমি পার্টি তার মূল আদর্শ ও নৈতিক মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। তাই আমরা একটি গোষ্ঠী হিসেবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

উল্লেখ্য, রাঘব চাড্ডাকে আপ-এর রাজ্যসভার উপনেতার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকেই দলের সঙ্গে সাংসদদের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।

ভগবন্ত মানের তোপ
সাংসদদের এই গণ-দলত্যাগকে মোটেই ভালোভাবে নেয়নি আপ নেতৃত্ব। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান সরাসরি এই সাত নেতাকে ‘গদ্দার’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, আপ-এর হাত ছেড়ে দেওয়ার কারণেই তাঁদের রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, যা পূরণ করল বিজেপি সরকার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy