বাজেট ২০২৬: ফিউচার-অপশনে বড় কোপ নির্মলার! হুড়মুড়িয়ে ১৫% পড়ল পুঁজিবাজারের শেয়ারের দাম

ফিউচার অ্যান্ড অপশন (F&O) বা ডেরিভেটিভস বাজারে ফটকা কারবার কমাতে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে কড়া পদক্ষেপ নিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। শেয়ার বাজারের লগ্নিকারীদের জন্য রীতিমতো দুঃসংবাদ শুনিয়ে সিকিউরিটিজ লেনদেন কর বা এসটিটি (STT) একধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। অর্থমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরপরই পুঁজিবাজারের সাথে যুক্ত সংস্থাগুলোর শেয়ারে ধস নেমেছে। বিএসই (BSE)-র শেয়ার দর প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। এনএসই ক্যাপিটাল মার্কেট ইনডেক্সও ৬ শতাংশ নিচে নেমে এসেছে।

বাজেটে কী পরিবর্তন করা হলো? অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ফিউচারের ক্ষেত্রে এসটিটি ০.০২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ০.০৫ শতাংশ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, অপশন প্রিমিয়াম এবং অপশন এক্সারসাইজের ওপর করের হার বাড়িয়ে ০.১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এর আগে প্রিমিয়ামের ওপর এসটিটি ছিল ০.১০ শতাংশ। মূলত সেবির (SEBI) সাম্প্রতিক রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে দেখা গেছে যে এফঅ্যান্ডও ট্রেডিংয়ে ১০ জন লগ্নিকারীর মধ্যে ৯ জনই লোকসানের মুখ দেখছেন। এই বিপজ্জনক প্রবণতা রোধ করতেই সরকার করের বোঝা বাড়াতে চেয়েছে।

রক্তক্ষরণ ব্রোকারেজ শেয়ারে: বাজেটে কর বৃদ্ধির ঘোষণার সাথে সাথেই অ্যাঞ্জেল ওয়ান এবং নুভমার মতো প্রথম সারির ব্রোকারেজ সংস্থাগুলোর শেয়ার ১০ শতাংশের বেশি পড়ে গেছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এসটিটি বৃদ্ধির ফলে ডেরিভেটিভস লেনদেনের খরচ বেড়ে যাবে, যা ট্রেডিং ভলিউম বা লেনদেনের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে। কোটাক সিকিউরিটিজের সিইও শ্রীপাল শাহের মতে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য রাজস্ব বৃদ্ধি নয়, বরং ডেরিভেটিভস বাজারের অস্বাভাবিক উন্মাদনা নিয়ন্ত্রণ করা।

তবে বাজারের একাংশ মনে করছেন, ব্রোকারেজ আয়ের ওপর এই পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সীমিত হতে পারে। সরকারের আসল উদ্দেশ্য হলো লগ্নিকারীদের উচ্চ ঝুঁকির লেনদেন থেকে সরিয়ে নগদ বাজারের (Cash Market) দিকে নিয়ে আসা। অন্যদিকে, বাজেটে ইলেকট্রনিক্স ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে ৪০,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগের ঘোষণার ফলে ওই সেক্টরের শেয়ারগুলোতে আবার তেজি ভাব লক্ষ্য করা গেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy