বাইক চড়ে ভয় দেখাচ্ছে গুন্ডারা! নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আদালতে বড় দাবি কমিশনের, স্বস্তি না কি অস্বস্তি—কী জানাল হাইকোর্ট?

ভোটের ঠিক মুখে রাজ্যে বাইক চলাচলের ওপর নির্বাচন কমিশনের (ECI) জারি করা বিধিনিষেধ নিয়ে তৈরি হল বড়সড় আইনি জটিলতা। কেন ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই বাইক নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চে কড়া প্রশ্নের মুখে পড়ল কমিশন। দীর্ঘ সওয়াল-জবাব চললেও আদালত আপাতত এই মামলার রায়দান স্থগিত রেখেছে।

কমিশনের বিস্ফোরক দাবি: আদালতে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু ও জিষ্ণু চৌধুরী চাঞ্চল্যকর তথ্য পেশ করেন। তাঁদের দাবি:

  • ভয় দেখানোর কৌশল: বাইক চেপে এসে ভোটারদের ভয় দেখানোর ভুরিভুরি অভিযোগ জমা পড়ছে।

  • পালিয়ে যাওয়া সহজ: অপরাধমূলক কাজ করে বাইকে দ্রুত চম্পট দেওয়া সহজ হচ্ছে, যা নাকা তল্লাশিতেও ধরা যাচ্ছে না।

  • পিছনের আরোহী নিয়ে সংশয়: বাইকের পিছনে বসা ব্যক্তিদের মাধ্যমেই অনেক সময় অশান্তি ছড়ানো হচ্ছে। কমিশনের মতে, রাজ্যের হিংসার ইতিহাস মাথায় রেখেই এই কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে।

হাইকোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ: কমিশনের যুক্তি শুনলেও বিচারপতি কৃষ্ণা রাও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন: ১. আইনি ভিত্তি কী? কোন আইনের ভিত্তিতে আমজনতার চলাচলের ওপর এই ধরণের নির্দেশিকা জারি করা হল, তা স্পষ্ট করতে পারেনি কমিশন। ২. সাধারণ মানুষের সমস্যা: নির্বাচনী কর্মীদের ছাড় দিলেও সাধারণ শ্রমিক বা কোচিং সেন্টারের পড়ুয়ারা, যাঁদের কাছে কোনও বিশেষ আইডি কার্ড নেই, তাঁরা কীভাবে যাতায়াত করবেন? ৩. বিকল্প ব্যবস্থা: কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ থাকতে কেন নাকা চেকিংয়ের বদলে সরাসরি চলাচলেই রাশ টানা হচ্ছে?

রাজ্যের পাল্টা যুক্তি: রাজ্যের তরফে আদালতে জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের এমন কোনও আইন তৈরির ক্ষমতা নেই যা সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করে। নাকা চেকিং বাড়ানো যেতে পারে, কিন্তু ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে বাইক বন্ধ করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যও।

অনিশ্চয়তায় বাইক আরোহীরা: বিচারপতি বাইক মিছিল নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকে সমর্থন করলেও, সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিয়ে উদ্বেগী। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত রায়দান স্থগিত রেখেছে। ফলে ভোটের আগে বাইক নিয়ে রাস্তায় বেরোনো যাবে কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গেল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy