‘নির্বাচন কমিশন কি নিরপেক্ষ?’ প্রথম দফার ভোট মিটতেই মোদী-কমিশন আঁতাঁতের অভিযোগে সরব বিরোধীরা!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই রণক্ষেত্রের রূপ নিল রাজধানীর রাজনীতি। ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগে এবার সরাসরি রাজ্যসভায় তাঁর অপসারণ বা ইমপিচমেন্ট চেয়ে নোটিস জমা দিল বিরোধী দলগুলি। কংগ্রেসের জয়রাম রমেশ এবং তৃণমূলের সাগরিকা ঘোষের নেতৃত্বে মোট ৭৩ জন সাংসদের স্বাক্ষর সম্বলিত এই নোটিস নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

কেন ক্ষুব্ধ বিরোধীরা? ৯টি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ:

বিরোধীদের দাবি, বর্তমান নির্বাচন কমিশন কোনোভাবেই নিরপেক্ষ নয়। রাজ্যসভার সেক্রেটারি জেনারেলের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগে মূলত ৯টি বিষয়কে তুলে ধরা হয়েছে:

  • ১. পক্ষপাতের অভিযোগ: প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের ক্ষেত্রে নীরবতা এবং বিরোধীদের অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ায় আদর্শ আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ।

  • ২. ‘গেট লস্ট’ মন্তব্য: তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মাত্র ৫ মিনিটের বৈঠকে ডেরেক ও’ব্রায়েনকে ‘গেট লস্ট’ বলার মতো অশোভন আচরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

  • ৩. ভোটার তালিকায় কারচুপি: পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯০ লক্ষ এবং উত্তরপ্রদেশে ২ কোটির বেশি ভোটারের নাম বেআইনিভাবে বাদ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

  • ৪. দূরদর্শনের অপব্যবহার: ভোটের মাঝে সরকারি প্রচারমাধ্যমকে রাজনৈতিক ভাষণের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়ার অভিযোগ।

  • ৫. প্রশাসনিক অরাজকতা: কেরালায় সরকারি নথিতে ভুল সিল এবং তামিলনাড়ুতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অফিসার বদলির অভিযোগ।

  • ৬. সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ: বিরোধীরা মনে করিয়ে দিয়েছে যে, খোদ শীর্ষ আদালত নির্বাচন কমিশনের কাজ নিয়ে ‘বিশ্বাসের অভাব’ বা ‘Trust Deficit’-এর কথা বলেছিল।

পুরানো লড়াইয়ের নতুন মোড়

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১২ মার্চও ১৯৩ জন সাংসদ একই দাবি তুলেছিলেন, যা সংসদের দুই কক্ষে খারিজ হয়ে যায়। তবে এবারের নোটিসে বিরোধীরা দাবি করেছেন, যতক্ষণ সিইসি-র বিরুদ্ধে তদন্ত চলবে, ততক্ষণ তাঁকে সমস্ত নির্বাচনী কাজ থেকে বিরত রাখতে হবে।

গণতন্ত্র ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

বিরোধীদের সাফ কথা, নির্বাচন প্রক্রিয়া বাঞ্ছিত স্বচ্ছতা হারিয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র নামে ৩৪ লক্ষ মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার বিষয়টি এবার আইনি লড়াইয়ের দিকে মোড় নিতে পারে।

সম্পাদকের নোট: নির্বাচনের মাঝপথে খোদ কমিশনের প্রধানের অপসারণের দাবি কার্যত অভূতপূর্ব। নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ধরে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy