দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক লড়াই আর টানাপোড়েনের পর অবশেষে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলো শুভেন্দু অধিকারীর নাম। বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির অভাবনীয় সাফল্যের পর থেকেই এই ঘোষণা ছিল স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। আজ (৮ মে) সন্ধ্যায় বিজেপি পরিষদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে নেতা নির্বাচিত করা হয়।
ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী রাজভবন এদিন বিকেলেই শুভেন্দু অধিকারী লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন এবং সরকার গড়ার দাবি পেশ করেন। এরপরই দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে তাঁর নাম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়। এই ঘোষণা হওয়ার পরেই শঙ্খধ্বনি আর জয় শ্রীরাম ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে হেস্টিংস-এর বিজেপি কার্যালয় ও রাজভবন চত্বর। কয়েক দশকের বাম ও তৃণমূল জমানার পর এই প্রথম কোনো বিজেপি নেতা বাংলার মসনদে বসতে চলেছেন।
সাফল্যের কারিগর শুভেন্দু ২০২১-এর নন্দীগ্রাম থেকে ২০২৬-এর মহাবিজয়— শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক গ্রাফ কেবল উর্ধ্বমুখীই থেকেছে। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর দুর্গ ভবানীপুরে পরাজিত করে তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, বাংলার মানুষের নাড়ির স্পন্দন তিনি বোঝেন। দলের একাংশের মতে, শুভেন্দুর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব আর নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে তাঁর সংযোগই এই অসাধ্য সাধন করতে সাহায্য করেছে।
কবে শপথ গ্রহণ? সূত্রের খবর, আগামীকাল (৯ মে) এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজভবনের লনে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে প্রায় ২৫ থেকে ২৬ জন মন্ত্রীও শপথ নিতে পারেন। এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
নয়া ভোরের আশায় বাংলা শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা হতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে অকাল হোলি। গেরুয়া আবিরে রাঙা হচ্ছে রাস্তাঘাট। অন্যদিকে, নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে কর্মসংস্থান, উন্নয়ন এবং শান্তি ফেরানোর আশায় বুক বাঁধছেন সাধারণ মানুষ। শুভেন্দু-ম্যাজিকে বাংলার ভাগ্য কতটা বদলায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।
বাংলার রাজনীতিতে এক ‘শুভেন্দু-যুগ’-এর সূচনা হলো আজ। ডেইলিয়ান্ট-এর পাঠকদের জন্য এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের প্রতি মুহূর্তের আপডেট নিয়ে আমরা থাকছি লাইভ।





