রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এবার সবথেকে বড় চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কর্মসংস্থান। একদিকে বিজেপির ইস্তেহারে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতির বন্যা, অন্যদিকে পাল্টা রিপোর্ট কার্ড নিয়ে ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নির্বাচনী সভা থেকে বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে মমতা দাবি করেন, তাঁর শাসনকালে বাংলায় ২ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
বিজেপিকে কড়া আক্রমণ: এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের মোদী সরকারকে লক্ষ্য করে প্রশ্ন তোলেন, “তোমার ডিফেন্সে কটা লোক নিয়েছ? রেলে গ্যাংম্যান নেই। একটা শূন্যপদও ভর্তি করেনি। বছরে ২ কোটি চাকরির কথা বলেছিলেন, একটাও দিয়েছেন?” প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ শানিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “বাংলায় আমরা ২ কোটি লোকের চাকরি দিয়েছি। এখানে ৪০ শতাংশ বেকারত্ব কমেছে। দিল্লির বিজেপি সরকার টাকা না দিলেও আমরা নিজেদের টাকায় প্রকল্প চালাচ্ছি।”
প্রকল্প ও প্রতিশ্রুতির লড়াই: বিজেপির দেওয়া প্রতিশ্রুতিকে ‘ভাঁওতা’ বলে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি ভোটের সময় কিছু বলে পরে কেড়ে নিই না। কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, শিক্ষাশ্রী—সবই চলছে। স্মার্ট কার্ড করে দেব বলেছিলাম, করে দিয়েছি। দুর্গাপুরে ফ্যাশন ডিজাইনারদের জন্য ‘আহরণ’ তৈরি করেছি।” বিহারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বিহারে ৮ হাজার টাকা দিয়ে এখন ফেরত চাইছে। আমরা কি কখনও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ফেরত নিই? ওটা আজীবন থাকবে।”
বিজেপির ইস্তেহার বনাম তৃণমূলের অবস্থান: উল্লেখ্য, বিজেপির ‘সংকল্প পত্রে’ আগামী ৫ বছরে ১ কোটি মানুষের চাকরি এবং বেকারদের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সরকারি শূন্যপদ পূরণের কথাও বলেছেন। এর পাল্টা জবাবে মমতা সাফ জানান, যারা ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত, তাঁদের প্রত্যেকের জীবিকার সন্ধান করবে রাজ্য সরকার। যারা এখনও আবেদন করেননি, তাঁদেরও দ্রুত প্রকল্পের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
ভোটের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবে—বিজেপির ‘নতুন চাকরি’র প্রতিশ্রুতি না কি মমতার ‘রিপোর্ট কার্ড’, তার ফয়সালা হবে ব্যালট বক্সেই।





