রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের সমন্বয়ের নতুন পথ প্রশস্ত হয়েছে। শনিবার কলকাতায় পা রাখলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। এই সফরের আবহেই রেলবোর্ডের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসার আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক ঐতিহাসিক ঘোষণা করলেন। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, বাংলায় রেল পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের পথ পরিষ্কার হয়েছে।
এদিন নবান্ন থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী চিংড়িহাটা পরিদর্শনে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সরকারের এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই আমরা উন্নয়নের কাজে নেমে পড়েছি। আগে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক ছিল যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব, যার ফলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একাধিক জনমুখী প্রকল্প থেকে বঞ্চিত ছিল বাংলা। কিন্তু এখন ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সুবাদে সেই চিত্র সম্পূর্ণ বদলেছে।”
পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্বতন ইউপিএ জমানায় বাংলা যেখানে রেল খাতে মাত্র ৪৩৮০ কোটি টাকা পেয়েছিল, সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার মাত্র এক বছরেই ১৪২০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ১০২টি নতুন ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ আধুনিকীকরণ এবং ৫৩৮টি রেল ওভার ব্রিজ ও সাবওয়ে তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।
রেল প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে আগের সরকারের সময়কার দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, রেলের মেজর মিশনগুলোর জন্য রাজ্য সরকার দ্রুত জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তিনি বলেন, “আমি রেলওয়ে বোর্ডকে বলেছি, একটি ক্যালেন্ডার তৈরি করুন। কবে কোথায় জমি লাগবে তা জানলেই রাজ্য সরকার তা অধিগ্রহণ করে দেবে। উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গ, জঙ্গলমহল থেকে সুন্দরবন—যেসব এলাকা এতদিন রেল মানচিত্রের বাইরে ছিল, তাদের এবার রেল সংযোগের আওতায় আনা হবে।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, বিএসএফ-এর সীমান্ত সুরক্ষা থেকে শুরু করে রেলের ৬১টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় এনওসি (NOC) প্রদান করা হয়েছে। রেলওয়ে বোর্ড এই প্রকল্পগুলোতে শতভাগ অর্থ বিনিয়োগ করবে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন, “বাংলার মানুষ এবার ডাবল ইঞ্জিন সরকারের প্রকৃত কাজের স্বাদ পাবে। রেল বাংলাকে নতুন করে গড়ে তুলছে।” রাজ্যের এই ইতিবাচক পদক্ষেপ এবং কেন্দ্রীয় বাজেটের সঠিক ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি বাংলার পরিবহন মানচিত্রকে আগামী কয়েক বছরে সম্পূর্ণ বদলে দেবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহল। এই উন্নয়নের ধারা বজায় থাকলে রাজ্যের শিল্প ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।





