প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে খুব শীঘ্রই। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের পর এবার নতুন সরকার গঠনের তোড়জোড় শুরু। ঠিক এই সন্ধিক্ষণে দিল্লির সদর দপ্তর থেকে পশ্চিমবঙ্গবাসীকে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আশাপ্রদ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে এক বিশেষ বিজয়োৎসবে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিলেন যে, আসন্ন বিজেপি সরকারের মূল লক্ষ্য হবে— তরুণদের কর্মসংস্থান এবং মহিলাদের জন্য এক নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা।
এদিনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে দেখা গেল সম্পূর্ণ বাঙালি মেজাজে। পরনে ধুতি ও পাঞ্জাবি, যা বাংলার সংস্কৃতি ও মানুষের প্রতি তাঁর বিশেষ শ্রদ্ধারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। প্রায় ৪৫ মিনিটের বক্তৃতায় তিনি পশ্চিমবঙ্গকে ঘিরে তাঁর ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেন। মোদী বলেন, “বিকশিত ভারত গড়ার স্বপ্ন সফল করতে গেলে বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ অপরিহার্য।” তিনি আশ্বাস দেন যে, দেশের সার্বিক উন্নয়নের দৌড়ে পশ্চিমবঙ্গ যাতে কোনওভাবেই পিছিয়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করবে কেন্দ্রের সরকার।
প্রধানমন্ত্রী এদিন একটি বড় ঘোষণা করেন। তিনি জানান, রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (Ayushman Bharat) প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসকদলের টানাপোড়েনের কারণে পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ এই বিশ্বমানের স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এবার সেই জট কাটানোর সরাসরি প্রতিশ্রুতি দিলেন মোদী। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে বাংলার কোনও উন্নয়নমূলক প্রকল্প আর আটকে থাকবে না।
স্বাস্থ্য ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে নারী সুরক্ষা ও অনুপ্রবেশ ইস্যু। মোদী প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিজেপির নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হবে পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের জন্য ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরি করা এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। এছাড়াও অনুপ্রবেশ বন্ধের বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতকে সরিয়ে রেখে এবার সমান্তরাল উন্নয়নের পথে হাঁটবে বাংলা।” মোদীর এই বার্তায় এখন নতুন দিনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে রাজ্যবাসী।





