চরম স্বাস্থ্য সংকটের মুখে বাংলাদেশ। দেশজুড়ে থাবা বসিয়েছে মারণ ভাইরাস ‘হাম’ (Measles)। গত মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ, যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই সংক্রমণের খবর পাওয়া গিয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য প্রাক্তন অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মহম্মদ ইউনূস ও তার শাসনকালকে দায়ী করে ক্ষোভে ফুঁসছে ওপার বাংলা।
মৃত্যুমিছিল ও শিশুদের সুরক্ষা: স্বাস্থ্য অধিদফতর (DGHS) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই ৫ বছরের কম বয়সী শিশু। হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়া ভিড়, আইসোলেশন বেডের আকাল এবং পর্যাপ্ত ভ্যাকসিনের অভাবে পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যাচ্ছে। গত দুই দশকের মধ্যে এটাই বাংলাদেশের সবথেকে ভয়াবহ হামের সংক্রমণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কাঠগড়ায় মহম্মদ ইউনূস: এই মহামারির নেপথ্যে রাজনৈতিক ডামাডোল এবং প্রশাসনিক গাফিলতিকে দায়ী করছেন অনেকে। অভিযোগ উঠেছে যে, ডঃ মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার টিকাদান কর্মসূচিতে গুরুত্ব না দিয়ে তাতে কাটছাঁট করেছিল। এমনকি বেসরকারি খাতে টিকাদানের প্রচেষ্টাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এই অভিযোগে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করা হয়েছে, যেখানে ডঃ ইউনূসসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একাধিক সদস্যের ওপর বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা (Travel Ban) জারির দাবি জানানো হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও টিকার সংকট: ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে টিকাদান কর্মসূচিতে যে স্থবিরতা এসেছিল, ২০২৬-এ এসে তারই ফল ভুগতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে— এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের। সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে ৫ এপ্রিল থেকে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করলেও মৃত্যুহার কমার লক্ষণ নেই। ঢাকা, মৈমনসিংহ এবং বরিশালের মতো এলাকাগুলো এখন সংক্রমণের মূল হটস্পট।
প্রতিবেশী দেশে এই মহামারি ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বিগ্ন ভারতীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকও। সীমান্তের ওপারে এই মৃত্যুমিছিল কবে থামবে, এখন সেটাই সবথেকে বড় প্রশ্ন।





