স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়াকে ঘিরে বাংলার রাজনীতি যখন তোলপাড়, ঠিক তখনই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের নাম যাতে ভোটার তালিকা থেকে না কাটা হয়, সেই চেষ্টা করছে রাজ্যের শাসক দল। একই সঙ্গে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দুরা ‘শরণার্থী’, তারা ‘অনুপ্রবেশকারী’ নয়, এবং এসআইআর প্রক্রিয়ায় তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বে না।
শুভেন্দু অধিকারী আজ আরও দাবি করেন যে, মায়ানমার থেকে বাংলাদেশ হয়ে ভারতে প্রবেশ করা রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশি মুসলমানরাই প্রকৃত ‘অনুপ্রবেশকারী’। এই প্রসঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে অভিযোগ করেন যে, ২০১৭ সালে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ‘এক্স’ (সাবেক ট্যুইটার) প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্ট করে রোহিঙ্গাদের পশ্চিমবঙ্গে ‘আহ্বান’ জানিয়েছিলেন।
এসআইআর প্রক্রিয়া নতুন কিছু নয় বলেও উল্লেখ করেন বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন, ২০০২ সালেও বাংলায় এসআইআর হয়েছিল এবং সেই তালিকা ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। সেবার প্রায় ২৫ লক্ষ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল বলে তাঁর দাবি। শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, বিহারে যদি ৫০ লক্ষের বেশি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে, তাহলে পশ্চিমবঙ্গে এর থেকে অনেক বেশি সংখ্যক নাম বাদ পড়বে।
এদিকে, শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার) নিয়োগে কারচুপির অভিযোগও তুলেছেন। তাঁর দাবি, রাজ্যের বহু বুথে এখনও স্থায়ী কর্মীর বদলে অস্থায়ী কর্মীকে বিএলও হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে। এই বিষয়ে নন্দীগ্রামের বিধায়ক নির্বাচন কমিশনের কাছে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। এই অভিযোগগুলি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা এবং নাগরিকত্ব ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র করবে বলে মনে করা হচ্ছে।