বাংলাদেশ ক্রিকেট আজ এক অন্ধকার চোরাবালির সামনে দাঁড়িয়ে, যেখান থেকে ফেরার পথ ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে আসছে। ভারত-বিদ্বেষে অন্ধ কট্টরপন্থীদের সন্তুষ্ট করতে গিয়ে আদতে দেশের ক্রিকেটকেই দীর্ঘমেয়াদী অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB)। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি বিশ্ব ক্রিকেটের মঞ্চে একটি দেশের অস্তিত্বের লড়াই। আর সেই লড়াই শুরুর আগেই ‘আউট’ হয়ে গেল বাংলাদেশ।
ইউনূস সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন পাকিস্তানের সঙ্গে সখ্যতা বাড়াতে গিয়ে বিসিবি-কে সাফ জানিয়ে দিয়েছে—ভারতে গিয়ে খেলা যাবে না। সরকারের এই রাজনৈতিক ও কট্টরপন্থী অ্যাজেন্ডার বলি হচ্ছেন ক্রিকেটাররা। অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজের অসহায় মন্তব্য, “সরকার ও বিসিবি আমাদের অভিভাবক”— আদতে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে ক্রিকেটারদের স্বপ্নের কুরবানি এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। ২০০০ সালে জগমোহন ডালমিয়ার সৌজন্যে যে টেস্ট স্ট্যাটাস বাংলাদেশ পেয়েছিল, আজ রাজনীতির নোংরা খেলায় তা ধুলোয় মিশতে বসেছে।
এই বয়কটের ফলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অর্থনীতিতে যে ধস নামবে, তা সামলানো অসম্ভব হতে পারে। স্পনসররা মুখ ফিরিয়ে নেবে, আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে তলানিতে গিয়ে ঠেকবে দল, আর সবচেয়ে বড় আঘাত আসবে ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে। ভারত ও বাংলাদেশের যৌথভাবে সেই বিশ্বকাপ আয়োজন করার কথা ছিল, যা এখন কেবলই অলীক স্বপ্ন। প্রবীণ সাংবাদিক শান্ত মাহমুদের মতে, এটি কেবল টুর্নামেন্ট বয়কট নয়, বরং ‘ক্রিকেটীয় আত্মহত্যা’। বিশ্ব ক্রিকেটের আঙিনায় জায়গা পাওয়া কঠিন, কিন্তু এক লহমায় সেই সম্মান হারানো কত সহজ, বাংলাদেশ আজ তারই জ্বলন্ত উদাহরণ।