আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান যেখানে থমকে যায়, সেখানে বিশ্বাসের জোরেই নাকি ঘটে চলেছে অলৌকিক সব কাণ্ড। বিহারের নালন্দা জেলার বহুয়ারা গ্রামে অবস্থিত ‘বাবা লালচান’-এর স্থানটি আজ সেই বিশ্বাসের এক অনন্য ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। গত ১০০ বছর ধরে মানুষের গভীর আস্থার কেন্দ্রবিন্দু এই তীর্থস্থানটি মূলত গবাদি পশুর রক্ষাকর্তা হিসেবে পরিচিত। পশুপালকদের দাবি, এখানে প্রার্থনা করলে শুধু যে গরু বা মহিষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হয় তা-ই নয়, বরং যে পশুরা দীর্ঘদিন ধরে গর্ভধারণে অক্ষম বা বাছুর দিতে পারছে না, তারাও সুস্থ বাছুরের জন্ম দেয়।
এই মন্দিরের জনপ্রিয়তা এখন আর শুধু নালন্দার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিবেশী জেলা নওয়াদা, শেখপুরা, পাটনা এমনকি মুঙ্গের থেকেও প্রতিদিন শত শত মানুষ নিজেদের গবাদি পশুদের মঙ্গল কামনায় এখানে ছুটে আসছেন। ভক্তদের বিশ্বাস, বাবা লালচানের আশীর্বাদ থাকলে বন্ধ্যত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পায় অবলা পশুরা। বাছুরের জন্মের পর এক বিশেষ ঐতিহ্য পালিত হয় এখানে। নিয়ম অনুযায়ী, নতুন বাছুর জন্মানোর ঠিক সোয়া এক মাস পর সংশ্লিষ্ট গবাদি পশুর প্রথম দুধ নিয়ে আসা হয় বাবার দরবারে।
মন্দির প্রাঙ্গণেই মাটির উনুন এবং গোবরের ঘুঁটা ব্যবহার করে সেই পবিত্র দুধ দিয়ে তৈরি করা হয় সুস্বাদু ক্ষীর, যাকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ‘তসমাই’। এই ক্ষীর প্রথমে বাবা লালচানকে নিবেদন করা হয় এবং পরে তা উপস্থিত ভক্ত ও গ্রামবাসীদের মধ্যে প্রসাদ হিসেবে বিতরণ করা হয়। বছরের পর বছর ধরে এই প্রথা চলে আসছে একই নিষ্ঠার সাথে। তবে এত বিপুল জনসমাগম সত্ত্বেও এই তীর্থস্থানটি অবহেলার শিকার। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, পানীয় জল বা ভক্তদের আশ্রয়ের মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধার এখানে চরম অভাব। প্রশাসন যদি এই অলৌকিক স্থানের উন্নয়নে একটু নজর দেয়, তবে এটি বিহারের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। অভাব থাকলেও মানুষের অটুট বিশ্বাসই আজ টিকিয়ে রেখেছে বাবা লালচানের এই মাহাত্ম্যকে।





