বন্ধ লিফট থেকে ধুলো জমা করিডোর— কেমন আছে এখন রাইটার্স বিল্ডিং? নবান্ন ছাড়ার মেগা প্ল্যান ফাঁস!

গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে, বদলে গিয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক রঙও। আর এই পালাবদলের আবহে তেরো বছর পর আবারও রাজ্যের ক্ষমতার অলিন্দে ফিরতে চলেছে ঐতিহাসিক ‘লালবাড়ি’ বা রাইটার্স বিল্ডিং। ২০১৩ সালে যে ভবনকে মাত্র ছ’মাসের জন্য ‘বিদায়’ জানানো হয়েছিল, দীর্ঘ তেরো বছর পর সেই মহাকরণেই আবার ফিরতে চলেছে রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক সদর দপ্তর।

নবান্ন অতীত, গন্তব্য এবার মহাকরণ

২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, সংস্কারের কাজের জন্য সাময়িকভাবে মহাকরণ থেকে নবান্নে প্রশাসনিক দপ্তর সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু সেই ছ’মাস গড়িয়ে পার হয়েছে তেরোটি বছর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর রাইটার্সে ফেরেননি। তবে রাজ্যে পরিবর্তনের পর এবার বিজেপি সরকার তাঁদের পুরনো প্রতিশ্রুতি পালন করতে চলেছে। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আগেই জানিয়েছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে সরকার পরিচালিত হবে নবান্ন নয়, ঐতিহাসিক মহাকরণ থেকেই।

২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তৎপরতা রাইটার্সে

নির্বাচনের ফল ঘোষণার মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই রাইটার্স বিল্ডিংয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। মঙ্গলবার দেখা গেল, পিডব্লিউডি (PWD) বা পূর্ত দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা মহাকরণ পরিদর্শনে এসেছেন। দীর্ঘকাল ‘দুয়োরানির’ মতো পড়ে থাকা এই হেরিটেজ ভবনের নিরাপত্তা এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমলাদের আনাগোনা দেখে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, নতুন মুখ্যমন্ত্রীর বসার জন্য রাইটার্সকে প্রস্তুত করার কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হতে চলেছে।

বর্তমানে কেমন আছে রাইটার্স?

হেরিটেজ কমিটির পরামর্শ মেনে কয়েক কোটি টাকা খরচ করে গত কয়েক বছরে মহাকরণের সংস্কারের কাজ হলেও অন্দরমহলের ছবিটা এখনও কিছুটা অগোছালো।

  • মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর: দোতলায় মুখ্যমন্ত্রীর পুরনো ঘর এবং সংলগ্ন মিটিং রুমটি এখনও নির্মীয়মাণ অবস্থায় রয়েছে।

  • রোটান্ডা ও বারান্দা: পুরনো কাঠামো বজায় রেখে সংস্কার চলছে। নতুন লিফট বসানো হলেও তা আপাতত বন্ধ।

  • পরিবেশ: তিনতলার কাজের পরিবেশ কিছুটা উন্নত হলেও মূল বিল্ডিংয়ের অনেক অংশই এখনও ভাঙাচোরা। পর্যাপ্ত জলের অভাব এবং যত্রতত্র আবর্জনা জমে থাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে কর্মীদের মধ্যে অভিযোগ রয়েছে।

মহাকরণের ইতিহাস ও বর্তমান দপ্তর

১৭৮০ সালে ব্রিটিশ আমলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কেরানিদের বা ‘রাইটার্স’-দের জন্য তৈরি এই ভবনটি বাংলার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসের সাক্ষী। বর্তমানে নবান্ন থেকে কাজ চললেও রাইটার্সে এখনও স্বরাষ্ট্র, ভূমি সংস্কার, কৃষি, আইন এবং পরিষদীয় দপ্তরের বেশ কিছু শাখা সক্রিয় রয়েছে।

বিজেপি ২০৭টি আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মহাকরণ ঘিরে নতুন উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সেই লাল অলিন্দে আবারও ভিআইপিদের কনভয় আর সাইরেনের শব্দ ফেরার অপেক্ষা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। নবান্ন থেকে ফাইলপত্র রাইটার্সে ফেরার এই মেগা ট্রান্সফার যে বাংলার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়, তা বলাই বাহুল্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy