“বন্ধ তেলের পথ, ধ্বংসস্তূপে মধ্যপ্রাচ্য!”-জেনেনিন ভারত কি পারবে এই মহাপ্রলয় থামাতে?

সপ্তম দিনে পা দিল ইরান, ইজরায়েল ও আমেরিকার মধ্যকার বিধ্বংসী যুদ্ধ। রক্তক্ষয়ী এই সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ তো নেই-ই, বরং প্রতি মুহূর্তেই বাড়ছে লাশের স্তূপ। ইতিমধ্যেই গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ১০০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে সাজানো গোছানো একাধিক শহর।

অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী: বিপাকে ভারত
যুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সারা বিশ্বে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি আঁচ লেগেছে ভারতেও। অপরিশোধিত তেলের জোগান নিশ্চিত করতে ভারত এখন মরিয়া হয়ে বিকল্প রাস্তার সন্ধান চালাচ্ছে। জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কায় কপালে ভাঁজ পড়েছে আমজনতার।

ইরানে মোজতবা যুগ ও রেভোলিউশনারি গার্ড
আলি খামেনেইয়ের প্রয়াণের পর ইরানের রাশ এখন তাঁর উত্তরসূরি মোজতবা খামেনেইয়ের হাতে। নতুন এই সর্বোচ্চ নেতাকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে শক্তিশালী ইরানি রেভোলিউশনারি গার্ড (IRGC)। ফলে আমেরিকা ও ইজরায়েলের প্রবল প্রত্যাঘাত সত্ত্বেও একচুলও পিছু হঠতে নারাজ তেহরান। দুই পক্ষই সমানে সমানে টক্কর দেওয়ায় যুদ্ধের ধারাবাহিকতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

শান্তির পক্ষে ভারতের সওয়াল
এমন চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতেও সংযম ও শান্তির বার্তা দিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যুদ্ধ কোনো সমাধান নয়। আলোচনার মাধ্যমেই দ্রুত সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত। তবে মোজতবার নেতৃত্বাধীন ইরান এবং ট্রাম্প-নাতানিয়াহু অক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে শান্তির পথ ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে আসছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই আগুনের লেলিহান শিখা কতদূর গড়ায় এবং বিশ্ব তেলের বাজারকে কতটা পঙ্গু করে দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সারা বিশ্ব।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy