দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালি সমুদ্র সৈকতে ফের এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে তলিয়ে গেলেন ২৬ বছর বয়সী এক যুবক। এই নিয়ে চলতি মাসেই এটি দ্বিতীয়বার একই ধরনের ঘটনা, যা স্থানীয় প্রশাসন ও পর্যটকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। পুলিশ সূত্রে নিখোঁজ যুবকের নাম নিত্যানন্দ পাল (২৬) বলে জানা গেছে। তাঁর বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার হাবরা থানার গুমা এলাকায়।
জানা গেছে, নিত্যানন্দ পাল তাঁর চার বন্ধুর সঙ্গে বকখালিতে বেড়াতে এসেছিলেন। রবিবার দুপুরে পাঁচ বন্ধু একসঙ্গে সমুদ্রে স্নান করতে নামেন। উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে সাঁতার কাটার সময় আচমকাই নিত্যানন্দ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর জলে তলিয়ে যান। বন্ধুদের দাবি, “হুল্লোড় করতে করতেই” এই ঘটনা ঘটে।
নিত্যানন্দকে দেখতে না পেয়ে বাকি চার বন্ধু খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও তাঁর সন্ধান না মেলায় তাঁরা দ্রুত ফ্রেজারগঞ্জ থানায় বিষয়টি জানান। খবর পেয়েই ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক ত্রিদীপ সাহা-সহ পুলিশ প্রশাসন তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তল্লাশি অভিযান শুরু করে। বর্তমানে সুন্দরবন পুলিশ জেলার এফআইবি বোট ব্যবহার করে নিখোঁজ যুবকের খোঁজে জোরদার তল্লাশি চালানো হচ্ছে, তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনো খোঁজ মেলেনি।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের ১৪ তারিখেও বকখালিতে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সেদিনও স্নান করতে নেমে এক পর্যটক জোয়ারের জলে তলিয়ে গিয়েছিলেন, পরে যাঁর দেহ পাতিবুনিয়ার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়।
টানা দ্বিতীয়বারের মতো এই ধরনের ঘটনা ঘটায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জারি করা সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে পর্যটকদের সমুদ্রে নামা নিয়ে গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও কিছু পর্যটক সমুদ্রের বিপদ উপেক্ষা করে বেপরোয়াভাবে নেমে পড়েন, যার ফলস্বরূপ এমন দুর্ঘটনা ঘটছে।
পুলিশ নিখোঁজ নিত্যানন্দ পালের বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সময় ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা করছে। ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক নিজে উপস্থিত থেকে পুরো তল্লাশি অভিযানের তদারকি করছেন। সমুদ্রের এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে পর্যটকদের আরও সতর্ক থাকার এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।