ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপে ডিউটির ছবি দিলেই কড়া শাস্তি, লালবাজারের ১৫ দফা ফতোয়া!

কলকাতা পুলিশের অন্দরে ডিজিটাল অনুশাসন ফেরাতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল লালবাজার। পুলিশ কর্মীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে লাগাম টানতে বৃহস্পতিবার একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করেছেন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার। বাহিনীর নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি বজায় রাখা এবং স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁস রোধ করাই এই ১৫ দফা নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য। কমিশনারের স্পষ্ট বার্তা, নিয়ম অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেন এই কড়া পদক্ষেপ? লালবাজারের পর্যবেক্ষণে ধরা পড়েছে, কলকাতা পুলিশের বহু কর্মী ব্যক্তিগত ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা হোয়াটসঅ্যাপে ডিউটির ছবি, ভিডিও এমনকি তদন্ত সংক্রান্ত গোপন তথ্যও শেয়ার করছেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক বিষয়েও পুলিশ কর্মীরা সামাজিক মাধ্যমে তর্কবিতর্কে জড়িয়ে পড়ছেন। এতে বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমানসে প্রশ্ন উঠছে। এই প্রবণতা বন্ধ করতেই আসরে নেমেছে লালবাজার।

১৫ দফা নির্দেশিকায় যা বলা হয়েছে: ১. গোপনীয়তা রক্ষা: কোনও পুলিশ কর্মী ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট বা মেসেজিং অ্যাপে তদন্তের কৌশল, তথ্যপ্রমাণ বা স্পর্শকাতর কোনও নথি প্রকাশ করতে পারবেন না।

২. রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা: সরকারি নীতি, প্রকল্প বা কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ায় মত প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বাহিনীর নিরপেক্ষতা নষ্ট হয় এমন কোনও মন্তব্য করা যাবে না।

৩. অপারেশনাল সিকিউরিটি: ডিউটি চলাকালীন ছবি, ভিডিও, ভিজিট বা ইনস্পেকশনের কোনও তথ্য অনলাইনে শেয়ার করা যাবে না। এমনকি অভিযুক্ত ব্যক্তি সম্পর্কেও আগাম কোনও মন্তব্য করা চলবে না।

৪. অপেশাদার আচরণ: অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তর্কে জড়ানো বা অপেশাদার আচরণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। সরকারি দপ্তর বা অন্য প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করাও শাস্তযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের সমস্ত থানা এবং বিভাগীয় প্রধানদের কাছে এই নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। লালবাজার সূত্রে খবর, এখন থেকে পুলিশ কর্মীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। বাহিনীর শৃঙ্খলা রক্ষায় এই ‘ডিজিটাল ডিসিপ্লিন’ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy