দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। টলিপাড়ার অন্যতম বিতর্কিত অথচ অত্যন্ত প্রশংসিত ছবি অনীক দত্ত পরিচালিত ‘অপরাজিত’ অবশেষে ফিরছে নন্দন প্রেক্ষাগৃহে। ২০২২ সালে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে যে ছবিটি নন্দনে প্রদর্শনের সুযোগ পাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে প্রবল বিতর্ক দানা বেঁধেছিল, চার বছর পর সেই ছবিকেই ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিলেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আগামী ৫ থেকে ৭ জুন পর্যন্ত নন্দনের পর্দায় ফের জীবন্ত হয়ে উঠবে সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালী’ নির্মাণের সেই অমর লড়াই।
২০২২ সালে ‘অপরাজিত’ মুক্তির সময় নন্দনে স্থান না পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল নানা মহলে। যদিও পরে একটি চলচ্চিত্র উৎসবে মাত্র দু’দিনের জন্য ছবিটি দেখানো হয়েছিল, কিন্তু স্থায়ীভাবে বা নিয়মিত প্রদর্শনীর সুযোগ ছবিটি কখনও পায়নি। দীর্ঘকাল ধরে দর্শকদের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছিল ছবিটি নন্দনে ফেরানোর জন্য। ২০২৬ সালে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল এবং নতুন প্রশাসনের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির ফলে সেই দীর্ঘস্থায়ী দাবি এবার পূরণ হতে চলেছে। প্রয়াত পরিচালক অনীক দত্তর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই বিশেষ প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই খবরে স্বাভাবিকভাবেই আবেগাপ্লুত ছবির মুখ্য অভিনেতা জীতু কামাল। সত্যজিৎ রায়ের আদলে নির্মিত চরিত্রটি পর্দায় ফুটিয়ে তুলে তিনি যেভাবে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন, তা বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এক অনন্য নজির। নন্দনে ছবিটির ফিরে আসা প্রসঙ্গে জীতু জানান, তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন। অনীক দত্তর মৃত্যুর পরদিনই তিনি মুখ্যমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে ছবিটির পুনঃপ্রদর্শনের আবেদন জানিয়েছিলেন। জীতু বলেন, “খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমি ইতিবাচক সাড়া পাই। প্রযোজনা সংস্থা ও পরিচালকের পরিবারের সম্মতির পর এই পুরো প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত হয়।”
জীতুর মতে, ‘অপরাজিত’-র এই প্রত্যাবর্তন শুধুমাত্র একটি ছবির নন্দন-যাত্রা নয়, বরং বাংলা সিনেমার দর্শকদের সেই দীর্ঘদিনের আবেগ ও প্রত্যাশার জয়। বহু বাধা, বির্তক ও রাজনৈতিক টালবাহানার পর অবশেষে নন্দনের পর্দায় অনীক দত্তর এই সৃষ্টি ফিরছে, যা সিনেমা প্রেমীদের কাছে এক উৎসবের মতো। রাজ্য পরিবর্তনের পর সংস্কৃতির পীঠস্থানে এই ধরনের সিদ্ধান্তের ফলে নতুন করে আশার আলো দেখছেন চলচ্চিত্র কলাকুশলীরা। ৫ থেকে ৭ জুন পর্যন্ত এই তিন দিন নন্দনে আবারও ভিড় জমাবেন সত্যজিৎ-ভক্ত ও চলচ্চিত্রপ্রেমী দর্শকরা।





