শেষ দফার নির্বাচনের আগে ‘ট্রাবল মেকার’ বা সম্ভাব্য অশান্তি সৃষ্টিকারীদের তালিকা নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সংঘাত এবার নতুন মোড় নিল। গত সপ্তাহে কলকাতা হাইকোর্টের রক্ষাকবচ থাকা সত্ত্বেও, ফের ৩৫০ জনের একটি নতুন তালিকা প্রকাশ করে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তৃণমূলের আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
আদালতের দ্বারস্থ তৃণমূল:
এদিন প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে দ্রুত শুনানির আবেদন জানান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, হাইকোর্টের আগের নির্দেশকে উপেক্ষা করে কমিশন ফের সক্রিয় হয়েছে, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
কমিশনের কড়া নির্দেশ বনাম আদালতের রক্ষাকবচ:
সোমবারই নির্বাচন কমিশন রাজ্যের ডিজিপি-কে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় তথা শেষ দফার নির্বাচনে এই ৩৫০ জন ‘ট্রাবল মেকার’-এর গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখতে হবে। কোনো বেআইনি কাজ চোখে পড়লে তৎক্ষণাৎ এফআইআর (FIR) এবং প্রয়োজনে গ্রেফতারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অথচ, গত বুধবারই এক মামলার রায়ে হাইকোর্ট জানিয়েছিল, ৩১ জুন পর্যন্ত কমিশনের চিহ্নিত কোনো কর্মীকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থার নামে আগাম গ্রেফতার করা যাবে না। যদি কেউ নতুন করে অপরাধমূলক কাজে জড়ান, তবেই পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারবে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর:
তৃণমূলের দাবি, পুলিশ-প্রশাসনের মাধ্যমে বেছে বেছে শাসকদলের কর্মীদের ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং তাঁদের গ্রেফতারির ভয় দেখানো হচ্ছে। অন্যদিকে, কমিশনের যুক্তি—শান্তিপূর্ণ ও অবাধ ভোট নিশ্চিত করতেই গোপন রিপোর্টের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এখন দেখার, প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এই নতুন মামলার শুনানি শেষে আদালত কী নির্দেশ দেয়।





