ফের আগুনের ছায়া গাজার আকাশে! যুদ্ধবিরতি ভেঙে বিমানহামলা ইজরায়েলের, নিহত অন্তত ২২, ত্রাণ প্রবেশ স্থগিত

আমেরিকার মধ্যস্থতায় গাজায় যে যুদ্ধবিরতির (Ceasefire) আশা দেখা গিয়েছিল, তা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। রবিবার সকালেই ইজরায়েল (Israel) গাজা উপত্যকায় ফের বিমানহামলা শুরু করেছে। এই আকস্মিক হামলায় নারী ও শিশু-সহ বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যা গাজাবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

আল জাজিরা সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে আল মাওয়াসি এলাকায় একটি ত্রাণ শিবিরে (Relief Camp) হামলা চালানো হয়। এই হামলায় অন্তত ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া উত্তর ও মধ্য গাজায় আরও বহু জায়গায় বিস্ফোরণে প্রাণ গেছে অন্তত ১৯ জনের, যার মধ্যে একজন সাংবাদিকও রয়েছেন। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, সকাল থেকে টানা বিমানহামলায় কেঁপে উঠেছে গোটা গাজা উপত্যকা।

ইজরায়েলের দাবি ও ত্রাণ স্থগিত:

ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) দাবি, এই হামলা শুধুমাত্র হামাসের (Hamas) সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করেই চালানো হয়েছে।

তবে শুধু বোমাবর্ষণ নয়, এর পাশাপাশি তেল আভিভ গাজায় মানবিক সাহায্য প্রবেশেও বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এপি সংবাদসংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইজরায়েল সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, হামাসের কার্যকলাপের কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনিশ্চিত। তাই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গাজায় কোনও ত্রাণ বা মানবিক সাহায্য প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি:

ইজরায়েলের বিদেশমন্ত্রী ইজরায়েল কাট্‌জ প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “আমাদের সেনাদের সুরক্ষা সর্বাগ্রে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য হামাসকে কঠোর মূল্য দিতে হবে।”

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে হামাস ও ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। বিশ্বজুড়ে সেটিকে শান্তির সম্ভাবনা বলে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু রবিবারই মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি করে যে হামাস নতুন করে হামলার ছক কষছে। হামাস এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও, সেই সন্দেহের জেরেই ইজরায়েল ফের কঠোর পদক্ষেপ নিল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

গাজার মানুষের কাছে আবারও নেমে এসেছে অন্ধকারের ছায়া, যেখানে শান্তির আলো ফোটার আগেই যুদ্ধের আগুনে জ্বলে উঠল আকাশ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy