ডানকুনি স্টেশনের সেই বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যার আতঙ্ক আজও তাড়া করে শাশ্বতী বসুকে। হাতে ভারী ব্যাগ নিয়ে প্ল্যাটফর্মের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে উন্মাদের মতো দৌড়েছিলেন ট্রেনের কামরা ধরতে। কারণ? কোনো কোচ ইন্ডিকেশন বোর্ড ছিল না। তবে আজ চিত্রটা ভিন্ন। শাশ্বতী বলেন, “মনে হচ্ছে স্টেশনটা এবার আমার সঙ্গে কথা বলছে। আর কোনো অনুমান নয়, কোনো দৌড়াদৌড়ি নেই।”
শাশ্বতীর এই স্বাচ্ছন্দ্যের নেপথ্যে রয়েছে পূর্ব রেলের বিশাল ডিজিটাল ভোলবদল। গত এক বছরে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে গিয়েছে ২৭টি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। আরামবাগ, সমুদ্রগড়, কল্যাণী ঘোষপাড়া থেকে ধুলিয়ান গঙ্গা— সর্বত্র বসানো হয়েছে হাই-টেক ট্রেন ইন্ডিকেশন বোর্ড (TIB) ও উচ্চ-দৃশ্যমান কোচ ইন্ডিকেশন বোর্ড (CIB)। ফলে দূর থেকেই যাত্রীরা জানতে পারছেন ঠিক কোথায় এসে থামবে তাঁদের কামরা।
যাত্রীদের বিনোদন ও তথ্যের জন্য রামপুরহাট ও নিউ ফারাক্কায় বসেছে বিশাল ভিডিও ওয়াল। মালদা টাউন বা জামালপুরের ওয়েটিং হলে এখন ৩১টি আধুনিক এলইডি টিভি যাত্রীদের রিয়েল-টাইম আপডেট দিচ্ছে। এমনকি মাইকের অস্পষ্ট ঘোষণা অতীত করে ১৭টি স্টেশনে চালু হয়েছে উন্নত অটো অ্যানাউন্সমেন্ট সিস্টেম। নিখুঁত সময়ের জন্য ২৩টি স্টেশনে জিপিএস ঘড়ি এবং সিউড়ি-পানাগড়ে বসানো হয়েছে নজরকাড়া টাওয়ার ক্লক। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেউস্কর জানান, প্রতিটি স্টেশনে বিশ্বমানের সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের মূল লক্ষ্য।





