ফেব্রুয়ারি মানেই শহরজুড়ে প্রেমের হাওয়া, উপহারের আদান-প্রদান আর রেস্তরাঁয় জমিয়ে খাওয়া-দাওয়া। কিন্তু এই হুজুগের মাঝে আপনি নিজে কেমন আছেন? অনিয়মিত ডায়েট, স্ট্রেস আর ঘুমের অভাব কি আপনার অজান্তেই শরীরকে অসুস্থ করে তুলছে? এই ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তে ‘সেলফ লাভ’ বা নিজেকে ভালোবাসার শপথ নিতে পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
কিভাবে এই ভালোবাসার মরশুমে নিজেকে সুস্থ রাখবেন? সেই বিষয়ে ক্লিনিকাল ডায়েটিশিয়ান ও নিউট্রিশানিস্ট পম্পা রায়ের বিশেষ টিপস তুলে ধরল আমাদের প্রতিবেদন।
১. সুষম খাবারই সুস্থতার মূল চাবিকাঠি
ডায়েট মানেই না খেয়ে থাকা নয়। পম্পা রায়ের মতে, পাতে থাকতে হবে ব্যালেন্স।
আপনার রোজকার খাদ্যতালিকায় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজ পদার্থ এবং ফাইবার—এই সবকটি উপাদানের সঠিক ভারসাম্য থাকা জরুরি।
এটি কেবল ওজন কমাবে না, বরং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে ভেতর থেকে শক্তিশালী করবে।
২. জল ও সঠিক সময়ের গুরুত্ব
পাহাড়প্রমাণ খাবারের চেয়েও জরুরি হলো সঠিক সময়ে খাওয়া। তাঁর পরামর্শ:
প্রতিদিন অন্তত ২ থেকে ৩.৫ লিটার জল পান করুন। গরমে দইয়ের ঘোল বা পাতিলেবুর শরবত ডায়েটে রাখতে পারেন।
টাটকা ফল ও শাকসবজি খাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় মেনে চলুন।
৩. শরীরচর্চা ও ঘুমের যুগলবন্দী
শুধু খাবার নিয়ন্ত্রণ করলেই হবে না, লাইফস্টাইলেও বদল আনতে হবে।
৩০ মিনিটের ম্যাজিক: দিনে অন্তত আধ ঘণ্টা হাঁটুন, সাঁতার কাটুন বা সাইক্লিং করুন। সময় না পেলে রাতে শোয়ার আগেও শরীরচর্চা করতে পারেন।
৮ ঘণ্টার ঘুম: মানসিক চাপ কমাতে এবং হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখতে দিনে অন্তত ৮ ঘণ্টা নিশ্চিন্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি।
৪. খুশি থাকাও ডায়েটের অংশ!
শরীর ভালো রাখতে গেলে মন ভালো রাখা আবশ্যিক। পম্পা রায় জানাচ্ছেন, শরীরে ডোপামিন, অক্সিটোসিন ও সেরোটোনিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়ানো দরকার।
প্রিয়জন, বন্ধু বা পোষ্যের সঙ্গে সময় কাটালে ‘হ্যাপি হরমোন’ নিঃসৃত হয়।
ভালো গান শোনা বা পছন্দের কাজে সময় দেওয়াটাও সুস্থ থাকার ডায়েটের মধ্যেই পড়ে।
৫. ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তে একটু বেশি খেয়ে ফেললে কী করবেন?
উৎসবের দিনে একটু আধটু অনিয়ম তো হবেই! পুষ্টিবিদের টিপস— একদিন পছন্দের খাবার খেলে ক্ষতি নেই, তবে সেটা যেন ৩-৪ পদের না হয়। আর যদি বেশি ক্যালোরি খেয়েই ফেলেন, তবে সেদিন শরীরচর্চা বা হাঁটা কোনওভাবেই মিস করা চলবে না।
এডিটরের কথা: আজ ভালোবাসার দিনে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে একবার বলুন— “আমি ভালো আছি”। কারণ আপনি সুস্থ থাকলেই আপনার চারপাশের পৃথিবীটা সুন্দর থাকবে।