‘প্রাণে মারতে চায়, মেরে দিক!’-সোনারপুরে মার খেয়ে যা যা বললেন অভিষেক

দক্ষিণ ২৪ পরগনার কামরাবাদ এলাকা কার্যত উত্তাল হয়ে উঠল তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরকে ঘিরে। নিহত দলীয় কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে স্থানীয়দের প্রবল জনরোষ ও বিক্ষোভে কার্যত নাজেহাল হতে হলো তাঁকে। অভিষেককে লক্ষ্য করে জুতো ও ডিম ছোড়া হয়, ছিঁড়ে যায় তাঁর পরনের শার্ট। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তারক্ষীরা মাথায় ক্রিকেট হেলমেট পরিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান।

কামরাবাদে যা যা ঘটল: শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ অভিষেক কামরাবাদে পৌঁছানোর অনেক আগে থেকেই সেখানে বিজেপি কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হতে থাকেন। হাতে ঝাঁটা ও কাঁচা ডিম নিয়ে মহিলারা রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে পড়েন। অভিষেকের গাড়ি দেখামাত্রই ‘চোর-চোর’ এবং ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান ওঠে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে গাড়ি থেকে নেমে বাইকে করে গন্তব্যের দিকে এগোনোর চেষ্টা করেন অভিষেক। কিন্তু নিহত কর্মীর বাড়ির কয়েকশো মিটার আগেই জনতা তাঁকে ঘিরে ফেলে। দুটি বাইক রাস্তায় আছড়ে ফেলা হয় এবং চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।

‘মেরে দিক, তবুও যাব না’: ক্ষুব্ধ অভিষেক পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে অভিষেক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, “ওরা আমাকে প্রাণে মারতে চায়। মেরে দিক, আমার মৃতদেহ উদ্ধার হোক, কিন্তু আমি জায়গা ছেড়ে যাব না।” এলাকায় কোনো পুলিশ মোতায়েন না থাকায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “আমি আদালতে যাব। বাংলায় কোনো গণতন্ত্র নেই।”

কেন এই জনরোষ? রাজনৈতিক মহলের ধারণা, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিজেপি কর্মীদের ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি, ডিজে বাজানোর রূপক ব্যবহার করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরেই সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দানা বেঁধেছিল। এদিন তারই বহিঃপ্রকাশ দেখা গেল রাস্তায়। উল্লেখ্য, এদিন সকালেই সিআইডির নোটিশ গ্রহণ করার পর অভিষেক কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন আক্রান্ত কর্মীর বাড়ি যাওয়ার কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু সোনারপুরে পৌঁছাতেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখে পড়েন তিনি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy