ভোপালের কাটারা হিলস এলাকায় ৩১ বছর বয়সী তরুণী ত্বিশা শর্মার রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে চাঞ্চল্য। গত মে মাসে নিজের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ত্বিশার মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে এবার সরাসরি আঙুল তুললেন তাঁর ভাই আশীষ শর্মা। পরিবারের অভিযোগ, শুরু থেকেই এই মামলাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চাপে তদন্তের গতিপথ বারবার ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের তির প্রধানত ত্বিশার শাশুড়ি, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি গিরিবালা সিং এবং স্বামী সমর্থ সিংয়ের দিকে। আশীষ শর্মার দাবি, ঘটনার পর থেকে মূল অভিযুক্তরা কার্যত অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। গিরিবালা সিং এখনও সেই একই বাড়িতে থাকছেন যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে, যা প্রমাণ লোপাটের বড় আশঙ্কা তৈরি করছে। পরিবারের প্রশ্ন, এত বড় একটি মামলায় গিরিবালা সিংকে কেন একবারও জিজ্ঞাসাবাদ করেনি পুলিশ?
তদন্তে পুলিশের গাফিলতি নিয়ে আশীষ একাধিক বিস্ফোরক তথ্য তুলে ধরেছেন। তাঁর অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে বড়সড় কারসাজি করা হয়েছে। প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যাচ্ছে ত্বিশা বেরিয়ে যাচ্ছেন এবং পরে তিনজন পুরুষ তাঁকে ওপরে নিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তাদের আর ওপরে উঠতে দেখা যাচ্ছে না। পরিবারের দাবি, ফুটেজটি সম্পাদনা করে প্রমাণ বিকৃত করা হয়েছে। এছাড়া, মৃত্যুর ঠিক পরদিন গিরিবালা সিংয়ের সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ৪৩টি ফোন কলের নথি সামনে আসায় সন্দেহের তালিকা আরও দীর্ঘ হয়েছে। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে পুলিশ যে তৎপরতা দেখাত, প্রভাবশালী শাশুড়ির ক্ষেত্রে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি বলে অভিযোগ।
ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়েও চূড়ান্ত ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আশীষ। তিনি জানান, দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের ক্ষেত্রেও প্রশাসন অসহযোগিতা করেছে। এইমস মরদেহ নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও, সেখানে পর্যাপ্ত সুবিধার অভাবের কথা বলে গড়িমসি করা হয়েছে। এমনকি, আদালত মাইনাস ৮০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় মরদেহ সংরক্ষণের নির্দেশ দিলেও তা মানা হয়নি। আইনজীবীর উপস্থিতি এবং বারবার আদালত পরিবর্তন নিয়ে আশীষের মন্তব্য, “পুরো ব্যবস্থাটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে আমরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে বিচার পাওয়ার আশা ছেড়ে দিই।”
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সমর্থ সিংয়ের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন ত্বিশা। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক সংক্রান্ত হয়রানির শিকার হতে হতো তাঁকে। পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে করা একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। যদিও শ্বশুরবাড়ির দাবি, ত্বিশা আত্মহত্যা করেছেন।
আশীষ শর্মা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাঁরা প্রতিটি স্তরে ন্যায়বিচারের জন্য লড়বেন। প্রয়োজন হলে হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত এই লড়াই চালিয়ে যাবেন তাঁরা। প্রভাবশালী মহলের চাপে এই মামলা যেন স্তিমিত না হয়, তার জন্য সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও নজর চেয়েছেন ত্বিশার পরিবার। ভোপাল পুলিশের ভূমিকা এখন গোটা দেশের কাছে প্রশ্নের মুখে। এই রহস্যমৃত্যুর জট খুলতে সিবিআই তদন্তের দাবিও ক্রমে জোরালো হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।





