নরেন্দ্র মোদী সরকার কি মাত্র এক বছরের মধ্যেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে? ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গদি নিয়ে এমনই বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। নয়া দিল্লিতে আদিবাসী কংগ্রেসের এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে রাহুল গান্ধী দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক ভয়ানক ও উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, যে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামো একসময় প্রধানমন্ত্রীর হাতের মুঠোয় ছিল, তা এখন ভেতর থেকে কাঁপছে এবং ভাঙনের মুখে।
NEET-UG ২০২৬ পরীক্ষা বাতিলের ঘটনা এবং CBSE-র অন-স্ক্রিন মার্কিং (OSM) বিতর্ক নিয়ে দেশজুড়ে যখন চরম অশান্তি ও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ তুঙ্গে, ঠিক তখনই রাহুলের এই আক্রমণ মোদী সরকারের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। রাহুল গান্ধী সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির ভেতরে এখন ‘প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্রোহ’ দানা বেঁধেছে। তাঁর কথায়, “প্রতিষ্ঠানের ভেতরের মানুষরা এখন ক্রমশ বিরোধীদের সঙ্গে তথ্য ভাগ করে নিচ্ছেন, কারণ তারাও বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে একমত হতে পারছেন না।”
রাহুল গান্ধীর মতে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি বা মুদ্রাস্ফীতিকে তিনি আসন্ন বড় অর্থনৈতিক সংকটের হিমশৈলের চূড়া মাত্র বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর হুঁশিয়ারি, ক্রমবর্ধমান এই জনরোষ নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে বর্তমান সরকার জরুরি অবস্থার মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হবে না। ২০২৪ সালে এনডিএ জোট টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রীর ওপর এটিই বোধহয় রাহুল গান্ধীর সবচেয়ে শক্তিশালী ও সরাসরি আক্রমণ।
শিক্ষা খাতের এই সাম্প্রতিক সংকটকে রাহুল গান্ধী কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখতে নারাজ। NEET পরীক্ষা বাতিল হওয়ার ফলে প্রায় ২০ লক্ষ পরীক্ষার্থীর স্বপ্নভঙ্গ এবং নতুন করে পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা নিয়ে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তুলে রাহুল শিক্ষা মন্ত্রককে সরাসরি “বিপর্যয়ের বিভাগ” (Department of Disaster) বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর মতে, বারবার পরীক্ষা সংক্রান্ত এই বিশৃঙ্খলা আসলে কেন্দ্রীয় সরকারের সামগ্রিক শাসনতান্ত্রিক ব্যর্থতারই প্রতিফলন।
রাহুল গান্ধী আরও আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদীর নীরবতা নিয়ে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তার ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে সারা দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি কথাও খরচ করতে নারাজ।” স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব নিয়ে বিরোধী দলগুলো যখন ক্রমাগত কেন্দ্রের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে, তখন রাহুলের এই বয়ান রাজনৈতিক পারদকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, পরীক্ষা কেলেঙ্কারি এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতাকে হাতিয়ার করে রাহুল গান্ধী সরকারের বিরুদ্ধে যে বৃহত্তর আন্দোলনের পরিকল্পনা করছেন, এটি তারই প্রথম ধাপ। এখন দেখার বিষয়, সরকারের অন্দরে এই ‘ভাঙন’ বা ‘বিদ্রোহ’ কতদূর জল গড়ায়।





