১৮ বছর আগের সেই ঐতিহাসিক জমি আন্দোলনের সাক্ষী সিঙ্গুর। রবিবার সেই সিঙ্গুরের গোপালনগর মৌজার ‘টাটার মাঠেই’ জনসভা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর সেই হাই-ভোল্টেজ মঞ্চ থেকেই রাজ্য সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন বিজেপি নেত্রী তথা রাজ্য সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, যে সিঙ্গুরের মাটি থেকে তৃণমূলের উত্থান হয়েছিল, সেই মাটি থেকেই এই সরকারের ‘বিসর্জন’ শুরু হবে।
বেলডাঙা কাণ্ডে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় সাম্প্রতিক অশান্তি এবং সেখানে কর্তব্যরত মহিলা সাংবাদিকদের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় এদিন ক্ষোভে ফেটে পড়েন লকেট। বিশেষভাবে নাম করেন আক্রান্ত সাংবাদিক সোমা মাইতির। লকেট অভিযোগ করেন, রাজ্য পুলিশ-প্রশাসন দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। তাঁর কথায়, “মহিলাদের সুরক্ষার কথা বলা মুখ্যমন্ত্রীর রাজ্যে মহিলা সাংবাদিকরা রাস্তায় ফেলে মার খাচ্ছেন, আর পুলিশ হাত গুটিয়ে বসে আছে। এই অরাজকতা আর সহ্য করা হবে না।”
মোদী-ম্যাজিক ও সিঙ্গুরে শিল্পের স্বপ্ন এদিনের সভা থেকে লকেট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, সিঙ্গুরের ন্যানো কারখানা গুজরাটের সানন্দে নিয়ে গিয়ে সেখানকার চেহারা বদলে দিয়েছেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মোদী। বিজেপি নেত্রীর দাবি, বাংলায় পরিবর্তন এলে সিঙ্গুরে আবার বড় শিল্প আসবে।
বিজেপির হেভিওয়েটদের ভিড় প্রধানমন্ত্রীর এই সভায় লকেটের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী ও সুকান্ত মজুমদারও। শুভেন্দু যেমন সিঙ্গুরে শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন, তেমনই সুকান্ত মজুমদার হুঁশিয়ারি দেন বিরোধীদের। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সিঙ্গুরের এই সভা যে বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।