বাংলাদেশের মসনদে বসার পরেই চরম বিড়ম্বনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একদিকে সরকার গঠনের উল্লাস, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের ‘তীর্যক’ আক্রমণে বিদ্ধ খালেদা-পুত্র। তবে এই আক্রমণ রাজনৈতিক সভার চেয়েও বেশি জোরালো হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। জামাত-ই-ইসলামী ও এনসিপি (NCP) সমর্থকদের দাবি, তারেক রহমান আদতে একজন ‘ইঞ্জিনিয়র’! তবে ঘরবাড়ি তৈরির নয়, বরং ‘ভোট চুরির ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার কারিগর।
কেন এই ‘ইঞ্জিনিয়র’ কটাক্ষ?
বিতর্কের সূত্রপাত এনসিপি নেতা নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। তিনি প্রথম তারেক রহমানকে ‘ইঞ্জিনিয়র’ বলে তোপ দাগেন। এর আগে তিনি বিএনপির হেভিওয়েট নেতা মির্জা আব্বাসকে ‘চাঁদাবাজ’ বলেও আক্রমণ করেছিলেন। নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসার পর থেকেই এনসিপি ও জামাত নেতারা দাবি করছেন, এবারের নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। আর সেই কারচুপির ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবেই তারেককে ‘ভোট চুরির ইঞ্জিনিয়র’ তকমা দিয়ে মিম বানানো হচ্ছে।
ভাইরাল এআই (AI) ছবি ও সোশ্যাল মিডিয়া ট্রোল:
ফেসবুক ও এক্সে (সাবেক টুইটার) ছড়িয়ে পড়েছে তারেক রহমানের নানা ব্যঙ্গাত্মক এআই ছবি। কোথাও দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর মাথায় ইঞ্জিনিয়ারিং হেলমেট, কোথাও আবার তিনি কন্সট্রাকশন সাইটে দাঁড়িয়ে। আমির হুসেন রবিন নামে এক নেটিজেনের পোস্ট রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে। তিনি লিখেছেন, “তারেক লন্ডন থেকে একজন ইঞ্জিনিয়র হিসেবে ফিরে এসেছেন”—যা পরোক্ষভাবে বিদেশ থেকে ভোট চুরির কৌশল শিখে আসার ইঙ্গিত। এমনকি অনেকে তাঁর উচ্চমাধ্যমিক পাশের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে ব্যঙ্গ করছেন।
তারেকের পাল্টা যুক্তি:
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে এই বিতর্ক নিয়ে মুখ খোলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। ২০০-র বেশি আসনে জয় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কৌশলী জবাবে বলেন, “আমি অবশ্যই ইঞ্জিনিয়রিং করেছি, তবে সেটা মানুষের মন জয় করার ইঞ্জিনিয়রিং।” কিন্তু তাঁর এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় বিরোধী শিবির।
অশান্ত ওপার বাংলার রাজনীতি:
এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদের দাবি, ঢাকা-১৩ থেকে ঢাকা-১৯ পর্যন্ত একাধিক আসনে ফলাফল কারচুপি করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী। জামাতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল আহসানুল মাহবুব জুবায়ের সরাসরি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছেন।
পাল্টা দিতে ছাড়েনি বিএনপি-ও। তাঁদের দাবি, নির্বাচনে হার নিশ্চিত জেনে এখন গুজব ছড়িয়ে দেশে অশান্তি সৃষ্টি করতে চাইছে জামাত ও এনসিপি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের রেশ কাটলেও ‘ইঞ্জিনিয়র’ বিতর্ক আপাতত পিছু ছাড়ছে না বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীর।