বাংলার সংসদীয় রাজনীতিতে আজ এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। বুধবার বিধানসভায় নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে সকাল থেকেই ছিল সাজ সাজ রব। তবে সবার নজর ছিল একজনের দিকেই—তিনি ভবানীপুরের নবনির্বাচিত বিধায়ক তথা রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন প্রথম বিধায়ক হিসেবে শপথ নিলেন তিনি।
বিধানসভায় প্রবেশের আবেগঘন মুহূর্ত: এদিন বিধানসভায় প্রবেশের সময় এক অন্যরকম শুভেন্দু অধিকারীকে দেখল রাজ্যবাসী। বিধানসভা ভবনের সিঁড়িতে পা রাখার আগে নতজানু হয়ে প্রণাম করেন তিনি। এরপর ভিতরে ঢুকে রীতিমতো পুজো সেরে তবেই নিজের কক্ষে প্রবেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। নিজের ফেসবুক পেজে এই বিশেষ মুহূর্তের ভিডিও শেয়ার করেছেন তিনি নিজেই। এর আগে বিধানসভা চত্বরে পৌঁছেই ডঃ বিআর আম্বেডকরের মূর্তিতে মাল্যদান করেন এবং তাঁকে বিশেষ ‘গার্ড অফ অনার’ প্রদান করা হয়।
শপথ নিলেন হেভিওয়েটরা: বিধানসভার প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় এদিন শুভেন্দু অধিকারীকে শপথবাক্য পাঠ করান। মুখ্যমন্ত্রীর শপথের পরেই একে একে শপথ নেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনীয়া এবং ক্ষুদিরাম টুডুর মতো হেভিওয়েট বিধায়করা।
দুই দিনের ম্যারাথন শপথ গ্রহণ: বিধানসভা সূত্রে খবর, বিশৃঙ্খলতা এড়াতে জেলাভিত্তিক ভাগ করে শপথের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে:
প্রথম ভাগ (সকাল ১১টা – দুপুর ১:৩০): এদিন প্রথমার্ধে উত্তরবঙ্গের ৯টি জেলা এবং মুর্শিদাবাদের মোট ৭৬ জন বিধায়ক শপথ নিয়েছেন।
দ্বিতীয় ভাগ (দুপুর ২টো – বিকেল ৪:৩০): দুপুর থেকে নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার আরও ৮০ জন বিধায়কের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
আগামীকাল (বৃহস্পতিবার): বাকি ১১টি জেলার বিধায়কদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভার চৌকাঠে শুভেন্দু অধিকারীর এই ভক্তিপূর্ণ প্রবেশ এবং শৃঙ্খলাপরায়ণ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বাংলার প্রশাসনিক পরিবর্তনের এক বড় বার্তা বহন করছে। প্রোটেম স্পিকারের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ শেষ হওয়ায় স্বস্তিতে সংসদীয় অলিন্দ।





