বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোটগ্রহণের আগে পারদ চড়ল তুঙ্গে। মাত্র এক দিন বাকি, তার আগেই যুযুধান দুই শিবিরের বাগযুদ্ধে কার্যত কাঁপছে রাজ্য রাজনীতি। একদিকে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একের পর এক জনসভা করে পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছেন, ঠিক তখনই পাল্টা চাল দিতে যাদবপুরের রাস্তায় পদযাত্রায় নামছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সব আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু এখন হাইভোল্টেজ ভবানীপুর কেন্দ্র, যেখানে সরাসরি লড়াই হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম শুভেন্দু অধিকারীর।
মমতার ‘সেঞ্চুরি’ দাবি:
ভোটের ঠিক আগে ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে আত্মবিশ্বাসের সুর ধরা পড়ল তৃণমূল নেত্রীর গলায়। প্রথম দফার ভোটের পর নিজেদের জয় নিশ্চিত দাবি করে মমতা বলেন, “প্রথম দফার যে নির্বাচন হল, আমরা তাতেই সেঞ্চুরি (১০০ আসন) পেরিয়ে গেছি। আর আগামী নির্বাচনেও আমরা আরও একটা সেঞ্চুরি পার করব।” তাঁর এই দাবি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। মমতার ইঙ্গিত স্পষ্ট—তিনি নিশ্চিত যে তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফের ক্ষমতায় ফিরছে। বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “বিজেপি ভয় পেয়ে গেছে। আর যে ভয় পেয়েছে, সে মরেছে।”
ভোটের আগে এনআরসি ও সতর্কবার্তা:
এদিন প্রচারমঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা এবং প্রশাসনিক রদবদল নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন মমতা। ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর বিশেষ পরামর্শ, “আপনারা নিজের ভোট নিজে দিন।” পাশাপাশি তিনি ভোটার স্লিপের জেরক্স কপি নিজেদের কাছে রাখার কথা বলেন। এনআরসি প্রসঙ্গ টেনে তিনি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেন যে, এটি ভোটারদের পরিচয় রক্ষার লড়াই।
মোদীর পাল্টা হুঙ্কার:
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করতে কোনও কসুর করেননি। তিনি দুর্নীতির ইস্যুতে কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “৪ মে-র পর তৃণমূলের সব গুন্ডা, অত্যাচারী এবং দুর্নীতিগ্রস্তদের হিসাব হবে।” মোদীর এই বক্তব্যে পরিষ্কার যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রশাসনিক শুদ্ধিকরণ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছুপা হবে না।
সব মিলিয়ে দুই হেভিওয়েটের এই ‘সেঞ্চুরি’ বনাম ‘হিসাব’ নেওয়ার লড়াইতে শেষ হাসি কে হাসবে, তা জানা যাবে আগামী ৪ মে। তবে তার আগে ২৯ এপ্রিলের দ্বিতীয় দফার ভোটই ঠিক করে দেবে বাংলার মসনদ কার দখলে থাকছে।





