ভারত মহাসাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা মোকাবিলায় ভারতীয় নৌবাহিনীর ‘সাব-সারফেস’ বা জলের নিচের যুদ্ধক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হলো। উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘প্রজেক্ট-৭৬’ (Project-76) কর্মসূচির আওতায় দেশীয় প্রযুক্তিতে ১২টি নতুন ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন তৈরির পরিকল্পনা এখন দ্রুত বাস্তবায়নের পথে।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য: বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে থাকা সাবমেরিন বহরের একটি বড় অংশ পুরোনো হয়ে গেছে। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে এবং বিদেশি নকশার ওপর নির্ভরশীলতা সম্পূর্ণ কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘মাজাগন ডক লিমিটেড’ (MDL) এবং বেসরকারি খাতের শিল্প জায়ান্ট ‘লারসেন অ্যান্ড টুব্রো’ (L&T) যৌথভাবে সাবমেরিনের নকশা ও নির্মাণের মূল দায়িত্বে রয়েছে।
বাজেট ও গুরুত্ব: প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, এই পুরো প্রকল্পের জন্য আনুমানিক বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ৭০,০০০ কোটি টাকা। এই বিপুল অঙ্কের অর্থের মধ্যে সাবমেরিনের নকশা প্রণয়ন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিকাশ এবং নির্মাণ সংক্রান্ত যাবতীয় খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে এই সাবমেরিনগুলি তৈরি হলে একদিকে যেমন খরচ কমবে, অন্যদিকে ভারতের রণকৌশলগত সক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে।
কেন এটি ‘গেম চেঞ্জার’? ১. সম্পূর্ণ দেশীয়: সম্পূর্ণ ভারতীয় নকশায় তৈরি এই সাবমেরিনগুলো ভারতের সামুদ্রিক ভৌগোলিক চাহিদার সঙ্গে মানানসই করে ডিজাইন করা হয়েছে। ২. আধুনিক প্রযুক্তি: এই সাবমেরিনগুলোতে পরবর্তী প্রজন্মের স্টিলথ প্রযুক্তি ও উন্নত সেন্সর থাকবে, যা শত্রুপক্ষের নজর এড়াতে অত্যন্ত কার্যকর। ৩. স্বনির্ভরতা: বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা না থাকায় রক্ষণাবেক্ষণ ও আপগ্রেডেশনের কাজ ভবিষ্যতে আরও সহজ হবে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় এটি দেশের প্রতিরক্ষা খাতের অন্যতম বৃহত্তম সাফল্য হতে চলেছে। ভারতের নৌবাহিনীকে বিশ্বের প্রথম সারির নৌ-শক্তিতে রূপান্তরিত করার পথে ‘প্রজেক্ট-৭৬’ এক ঐতিহাসিক অধ্যায় হিসেবে গণ্য হচ্ছে।





