দেশের শিল্প, বাণিজ্যিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রের জন্য জ্বালানি সংগ্রহের নিয়মে বড়সড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্রীয় সরকার। এখন থেকে সাধারণ পেট্রোল পাম্প থেকে বিপুল পরিমাণে পেট্রোল বা ডিজেল কেনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মধ্য এশিয়ার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতা এবং দেশে জ্বালানির অস্বাভাবিক চাহিদার কথা মাথায় রেখেই ১১ জুন পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক এই কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ পেট্রোল পাম্প এবং পাইকারি বাজারের জ্বালানির দামের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। বর্তমানে দিল্লিতে সাধারণ পাম্পে ডিজেলের দাম যেখানে ৯৫.২০ টাকা, সেখানে পাইকারি বাজারে তা প্রায় ১৩৪.৫০ টাকা। এই বিশাল আর্থিক ফারাকের সুবিধা নিতেই অনেক বড় শিল্পগোষ্ঠী ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতারা পাইকারি বাজার এড়িয়ে সাধারণ পাম্প থেকে কম দামে তেল মজুত করা শুরু করেন। এই কালোবাজারি ও সংকট রুখতেই সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।
‘মোটর স্পিরিট অ্যান্ড হাই স্পিড ডিজেল অর্ডার ২০২৬’-এর অধীনে জারি হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ পেট্রোল পাম্প থেকে শুধুমাত্র গাড়ির নিজস্ব ট্যাঙ্কে বা ‘পেসো’ অনুমোদিত কন্টেনারে ডিজেল কেনা যাবে। প্রতিটি গ্রাহক বা গাড়ির জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ ২০০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল ক্রয়ের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, পাম্প থেকে কেনা ডিজেল খোলা বাজারে পুনরায় বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, শিল্প ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতাদের এখন থেকে তাদের জ্বালানি সংগ্রহ করতে হবে সরাসরি নির্দিষ্ট ‘বাল্ক সেলস পয়েন্ট’ বা পাইকারি কেন্দ্র থেকে। এই নিয়ম বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে। পাশাপাশি, রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির প্রশাসনকে এই বিষয়ে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ এই নিয়ম লঙ্ঘন করে তেল মজুত বা বেআইনিভাবে সংগ্রহ করার চেষ্টা করেন, তবে ‘অপরিহার্য পণ্য আইন’ (Essential Commodities Act) অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রাথমিকভাবে আগামী ৯০ দিন পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সরকার প্রয়োজনে এই মেয়াদ আরও বাড়াতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। জরুরি অবস্থার কথা মাথায় রেখে সরকার বিশেষ ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট গ্রাহক বা সংস্থাকে এই নিয়মের বাইরে বিশেষ ছাড় দেওয়ার ক্ষমতাও নিজের হাতে রেখেছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হবে, তেমনই জ্বালানি খাতে কালোবাজারি ও অসাধু কারবারিরাও নিয়ন্ত্রণাধীন থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





