বিলাসবহুল স্পোর্টস কারের জগতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল ফেরারি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রোমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে আনা হলো ইতালীয় এই সংস্থার প্রথম ইলেকট্রিক গাড়ি— ‘ফেরারি লুচ’ (Ferrari Luce)। ফেরারি পরিবারে এটি কেবল তাদের প্রথম ইভি মডেলই নয়, বরং কোম্পানির ইতিহাসে প্রথম চার দরজা বিশিষ্ট পাঁচ আসনের সুপারকার। ইলেকট্রিক জগতে পা রাখলেও, ফেরারি তাদের পেট্রল ও হাইব্রিড মডেলের ঐতিহ্য বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।
কেন ফেরারি লুচ অনন্য?
প্রথাগত ফেরারি স্পোর্টস কারের সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে নতুন প্ল্যাটফর্ম এবং নতুন ইঞ্জিন আর্কিটেকচারে তৈরি হয়েছে এই লুচ। সংস্থা জানিয়েছে, গাড়িটির ডিজাইন এমনভাবে করা হয়েছে যাতে কেবিনের ভেতর যাত্রীরা সর্বোচ্চ আরাম পান। ফেরারি মানেই যে কেবল চালকের বিনোদন নয়, বরং পরিবার নিয়েও ভ্রমণের উপযোগী এক রাজকীয় অভিজ্ঞতা, সেই বার্তাই এই মডেলে স্পষ্ট।
পারফরম্যান্সের ঝড়ে দিশেহারা প্রতিদ্বন্দ্বীরা
এই ইভি মডেলে ব্যবহার করা হয়েছে মোট চারটি ইলেকট্রিক মোটর, যার প্রতিটি চাকার সঙ্গে যুক্ত। এটি সম্মিলিতভাবে ১০৫০ হর্সপাওয়ার আউটপুট তৈরি করতে সক্ষম। কন্ট্রোল মোডে গাড়িটি ১১,৫০০ এনএম (Nm) টর্ক উৎপন্ন করতে পারে, যা কার্যত অবিশ্বাস্য। পারফরম্যান্সের বিচারে এটি যে কোনো সুপারকারকে টেক্কা দেবে। মাত্র ২.৫ সেকেন্ডে ০ থেকে ১০০ কিমি এবং ৬.৮ সেকেন্ডে ০ থেকে ২০০ কিমি গতি তুলতে সক্ষম এই যান। এর সর্বোচ্চ গতি প্রতি ঘণ্টায় ৩১০ কিমি।
ব্যাটারি ও চার্জিং প্রযুক্তি
গাড়িটিতে রয়েছে ১২২ কিলোওয়াট আওয়ারের (kWh) শক্তিশালী ব্যাটারি প্যাক। ইতালির মারানেল্লোতে বিশেষভাবে তৈরি এই ব্যাটারিটি ৩৫৫ কিলোওয়াট ফাস্ট চার্জিং সমর্থন করে। সংস্থার দাবি, মাত্র ২০ সেকেন্ডের চার্জেই গাড়িটি ৭০ কিলোওয়াট শক্তি পুনরুদ্ধার করতে পারে। এক চার্জে ৫৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত অনায়েসে পাড়ি দিতে সক্ষম এই সুপারকার। এছাড়া, এর অত্যাধুনিক থার্মাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যাটারির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে দীর্ঘক্ষণ হাই-স্পিড ড্রাইভিংয়ের সময়ও পাওয়ার সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখে।
শব্দ ও নান্দনিকতা
ফেরারির ইভি বলে কি সেই পরিচিত গর্জন শোনা যাবে না? এখানেই চমক দিয়েছে সংস্থা। লুচের জন্য কোনো কৃত্রিম শব্দ ব্যবহার করা হয়নি। গাড়ির স্বাভাবিক ভাইব্রেশন ও ফ্রিকোয়েন্সি থেকেই তৈরি হবে এক অনন্য সাউন্ড অভিজ্ঞতা। এছাড়া, বিশ্ববিখ্যাত ডিজাইন এজেন্সি ‘লাভফ্রম’ (LoveFrom)-এর সাথে যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই গাড়িটির বাহ্যিক রূপ অত্যন্ত আকর্ষণীয়। ২৩ ইঞ্চির ফ্রন্ট হুইল ও ২৪ ইঞ্চির রিয়ার হুইল গাড়িটিকে দিয়েছে এক আগ্রাসী লুক। ভেতরে স্যামসাং ডিসপ্লে সমৃদ্ধ ওএলইডি স্ক্রিন এবং ২১ স্পিকারের অডিও সিস্টেম চালক ও যাত্রীদের দেবে কনসার্ট হলের অভিজ্ঞতা। লাগেজ রাখার জন্য থাকছে পর্যাপ্ত জায়গা। বিলাসবহুল ডিজাইন আর বৈদ্যুতিক ক্ষমতার মেলবন্ধনে ফেরারি লুচ এখন বিশ্বের অটোমোবাইল বাজারে নতুন মানদণ্ড তৈরি করতে প্রস্তুত।





